স্বর্ণের দ্বীপ সোনাদিয়া রাত্রিযাপন করতে পর্যটকদের নিষিদ্ধ

সোনাদিয়া দ্বীপে বহিরাগত পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মহেশখালী প্রতিনিধি: উপজেলা মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের স্বর্ণের দ্বীপখ্যাত সোনাদিয়া দ্বীপে বহিরাগত পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন বছরের শুরুতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মহেশখালীর থানার একটি সূত্রে। তবে এই সিন্ধান্তকে অনেকে সাধুবাদ জানালো আবার অনেকে নারাজ হয়েছেন। এমরান ফারুক অনিক ও মোহাম্মদ ফারুক নামে দুই যুবক তাদের ফেসবুক টাইম লাইনে লিখেছেন, মহেশখালীর সোনাদিয়ায় রাত্রি যাপন নিষিদ্ধ বাজে সিদ্ধান্ত। অথচ এই সোনাদিয়া লিজ দেয়া হয়েছে বা দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে!

জানা গেছে, খরচে সোনাদিয়া দ্বীপের ভ্রমন করছে স্থানিয়দের পাশা-পাশি দুরদুরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। বড় ধরনের কোন ঘটনা ছাড়া অনেকে রাত যাপন করেছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে। তাছাড়া পর্যটক আসলে স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষরা অর্থনৈতিকভাবে কিছুতা লাভবান হত। সে আয়ের পথ ও বন্ধ হয়ে গেছে পর্যটকদের নিষিদ্ধ করার পর থেকে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে এ–সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ফেসবুকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া স্থানীয় জনসাধারণ ব্যতীত কোনো বহিরাগত পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে কেউ যদি আদেশ অমান্য করে বহিরাগত পর্যটককে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ করে দেন এবং যাঁরা অবস্থান করবেন, উভয়কে আইনের আওতায় আনা হবে। পর্যটকদের রাতে দ্বীপে অবস্থানের জন্য যাঁরা ইতিমধ্যে প্যাকেজ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত বিজ্ঞপ্তি তুলে নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বিকেল চারটার আগে বহিরাগত সবাইকে দ্বীপ এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

প্রণব চৌধুরী বলেন, দিনে পর্যটকদের সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। তবে তাঁদের অবশ্যই বিকেল চারটার মধ্যে দ্বীপ থেকে ফিরে আসতে হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবেও বলে জানান ওসি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন, সোনাদিয়া দ্বীপটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে রাত্রিযাপন আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। আর দ্বীপটি দুর্গম, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ফাঁড়ি নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওসি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিদের জানিয়ে দিয়েছেন।”