সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার সংবাদকর্মী: মামলা দায়ের!

হামলার শিকার হয়েছেন কক্সবাজারস্থ দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকার সংবাদকর্মী ইমরান আল মাহমুদ
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

উখিয়া প্রতিনিধি: উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কক্সবাজারস্থ দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকার সংবাদকর্মী ইমরান আল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংগ্রহে গেলে পরিষদ ভবনের সামনেই তার ওপর অতর্কিত হামলা হয়।

আহত সংবাদকর্মী ইমরান উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদিক সমাজ। এ ছাড়া দোষীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় আহত ইমরান বাদী হয়ে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনারপাড়ার আলিম উল্লাহর ছেলে মো. আকাশ (২২)-সহ পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত করে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ২৩। তারিখ: ০৪/০৮/২২ইং

এদিকে হামলার পরপরই উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে শতশত ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন পরিষদে এসে নানান ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছি। প্রতিটি কাগজে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। যা বলার বা দেখার কেউ নেই।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিষদের উদ্যোক্তাদের কক্ষে গিয়ে দেখা যায় উদ্যোক্তারা কক্ষে নেই। উদ্যোক্তারা না থাকলেও ছয়-সাতজন লোক সেখানে কাজ করছেন। তারা পরিষদের নিয়োগ প্রাপ্ত কি না জানতে চাইলে কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি।

উদ্যোক্তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময় চেয়ারম্যানের নির্বাচনীকর্মী নামধারী শামশের আলম নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ছৈয়দ আলম বলেন, ‘পুরুষ মেম্বারেরা সহযোগিতা না করার কারণে দিনরাত পরিশ্রম করেও কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। আর কিছু মানুষ নিজেরা দালালি করতে না পেরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।’

চেয়ারম্যানের কথার সাথে সাধারণ মানুষের অভিযোগের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

প্রসঙ্গত, উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ভোটার তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রম। কিন্তু ভোটার হতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এমন অভিযোগ অহরহ।