শনিবার আওয়ামী লীগের সম্মেলন, আলোচনায় চট্টগ্রামের ৬ নেতা

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. হাছান মাহমুদ, বিপ্লব বড়ুয়া, ওয়াসিকা আয়েশা খান, আমিনুল ইসলাম আমিন ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। (বাম থেকে)।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্বে রয়েছেন চট্টগ্রামের ৫ নেতা। আগামীকালের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলেও তাদের সবাই বহাল থাকার সম্ভাবনা। পাশাপাশি দুই নেতার পদোন্নতিও হতে পারে। ফের প্রত্যাবর্তন হতে পারে ২০তম কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের।

মূলত আগের পাঁচ নেতার দুই জনকে স্বপদে বহালের পাশাপাশি দুই নেতার পদ বিন্যাস বা পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের জন্য চমক হিসেবে বিবেচিত হবে যদি এবারের সম্মেলনে নওফেলের প্রত্যাবর্তন হয়।

২১তম কাউন্সিলে চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আছেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

এবারও এই পাঁচজনের নাম আলোচনায় রয়েছে, তবে তাদের মধ্যে ড. হাছান মাহমুদকে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক, আব্দুস সোবাহান গোলাপ দায়িত্বে থাকলেও প্রচার বিভাগ সামলে আসা আমিনুল ইসলাম আমিনকে এবার পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ারও দায়িত্ব পরিবর্তন কিংবা পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ২২তম কাউন্সিলে ২০তম কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের প্রত্যাবর্তন হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২০তম কাউন্সিল পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিভাগের মত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্ব সামলে আসার পর সরকার ও দলকে আলাদা করার নীতির কারণে গত কাউন্সিলে নওফেলকে বাদ দেওয়া হয়। যদিও এর আগে তার কাঁধে উঠে চট্টগ্রামের প্রেস্টিজিয়াস আসন খ্যাত কোতোয়ালীর এমপির পদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব।

তবে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ইস্যুতে হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় আসার পাশাপাশি টকশোতে সরকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে দৃষ্টি কেড়েছেন চট্টলবীর মহিউদ্দীন চৌধুরীর পুত্র নওফেল। তাছাড়া চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তার ব্যাপক অনুসারি থাকার কারণেও দলে তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

জানা গেছে, লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে আসা শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন। হয়তো আগামীকালের কাউন্সিলে সেই ইচ্ছার প্রতিফলনও ঘটতে পারে।

যদিও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিষয়টিকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এসব একদম বোগাস কথা। সরকারের যে দায়িত্বে আছি সেটি নিয়েই বিজি আছি। আমাকে সরকার ও দলের নানা কাজ করতে হয়। নেত্রী যখন যেটা বলেন সেটাই পালন করি।’

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে চাউর আছে, নওফেলকে কেন্দ্রে দায়িত্ব না দিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সভাপতি এবং নগর আওয়ামী লীগের সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে সেক্রেটারি করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি দিতে চায় দলের হাই কমান্ড।

সেক্ষেত্রে নওফেল কি ভাবছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব জানি না। দায়িত্ব আসলে পালন করব। আমি এসব নিয়ে এতো ডেসপারেট না। আমাদের অনেক নেতা রয়েছে এসব দায়িত্ব পালনের জন্য। চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতির জন্য কালেক্টিভ লিডারশিপ খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য পদে থাকা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের প্রত্যাবর্তন হচ্ছে নাকি নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির দায়িত্ব তার ঘাড়ে উঠছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০২ সাল থেকে আছেন রাঙ্গুনিয়ার সন্তান ড. হাছান মাহমুদ। সেই সম্মেলনে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অভিষেক হওয়া ড. হাছান ২০০৯ সালে ১৮তম সম্মেলনে ফের একই পদে বহাল থাকেন। ওই সময় তিনি সরকারের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১২ সালের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ও দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের সম্মেলনেও স্বপদে বহাল থাকেন তিনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ সম্মেলনে পদোন্নতি পেয়ে তিনি দলের তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকার ও দল নিয়ে গণমাধ্যমে সরব থাকা ড. হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পছন্দের তালিকায় থাকায় সম্মেলনের অনেক আগে থেকেই তাকে সেক্রেটারি করা হবে বলে তার অনুসারিদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে। এমনকি তার অনুসারিরা হাছান মাহমুদকে সেক্রেটারি করার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্টও করছেন। যদিও দলের সেক্রেটারি হিসেবে ওবায়দুল কাদের বহাল থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি হওয়ায় সেই সুযোগ পাচ্ছেন না তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তবে সাংগঠনিক কাজে কারিশমা দেখানো হাছান মাহমুদকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হতে পারে বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতে বা তার হয়ে যাতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে পারেন হাছান মাহমুদ।

অন্যদিকে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ত্যাগী মেধাবী রাজনৈতিক আমিনুল ইসলাম আমিন অদৃশ্য কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হয়নি অনেক বছর। সাতকানিয়ার সন্তান আমিনুল ইসলাম আমিন ২০০৯ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ১৮তম ও ২০১২ সালে ১৯তম সম্মেলনেও কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সালে উপ-প্রচার সম্পাদক ও ২০১৯ সালে ফের উপ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ থাকলেও মূলত প্রচার সেলের পুরো দায়িত্বটা আমিনুল ইসলাম আমিন একাই সামলে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ পরিচালনা করে তিনি নেতাকর্মীসহ হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এসব কারণেই তাকে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রচার বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারে দলের হাইকমান্ড।

এছাড়া প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ফের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল রাখার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। তবে বিপ্লব বড়ুয়ার দপ্তর পরিবর্তন করে তাকে পদোন্নতি দেওয়ার কথাও শুনা যাচ্ছে।

যদিও এসব বিষয়ে কেউ-ই কথা বলতে রাজি হননি। সবারই এক কথা দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যাকে যে দায়িত্ব দিবেন সেটাই চূড়ান্ত। দলের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের কাউন্সিলের চমকের বিষয়ে ইতোমধ্যে বলেছেন, ‘সভাপতি পদে তিনি (শেখ হাসিনা) অপরিহার্য। তাকে সমর্থন করবে না এমন কেউ নেই। সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ১০ জন প্রার্থী আছেন, যারা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে নেত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। পরবর্তী কাউন্সিলে হয়তো রদবদল হবে। আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের ব্যাপারে ভাবছি না।’