রুমানা হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি পরিবারের

রুমানা আকতার (২২)।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে রুমানা আকতার (২২) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারী) বিকেলে উপজেলার বিআরডিবি হলে সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা মো. নুরুল আলম লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,নিহতের মা নুর নাহার ,মর্জিনা আকতার,খাইরুন্নেছা, জানে আলম,আলী আহমদ কামাল হোসেন,মোঃ সাগর প্রমূখ।

তাদের দাবি, ঘটনার দিন ভোরবেলা শ্বশুড় বাড়ি থেকে খবর দেয় যে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। খবর পেয়ে আমরা মেয়ের শ্বশুড় বাড়িতে ছুটে যায়। এসময় আমার মেয়ের চাচা শ্বশুড় মো আবুল খায়ের রুমানার লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাক্ষর লাগবে বললে আমার সেজো ছেলে মোঃ লোকমান একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দেয়। বোনের মৃত্যুতে শোকাহত থাকায় কোথায় স্বাক্ষর করছে তা সে জানে না। কিন্তু আমরা পরে জানতে পারি আমার ছেলের স্বাক্ষরিত ওই সাদা কাগজটি অপমৃত্যুর সংবাদ হিসেবে থানায় অপমৃত্যুর মামলা নং- ২০ হিসেবে রুজু করিয়া লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। ওই সময় আমরা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাস্তবে আমার মেয়ে রুমানা আক্তার আত্মহত্যা করে নাই। তাকে তার শশুড় বাড়ির লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে রুমানার স্বামী আবু তৈয়বের নির্দেশে হত্যা করেছে। যাহা প্রমাণে রুমানার ঝুলন্ত লাশ পর্যালোচনা করলে তার পা খাট থেকে প্রায় এক ফুট নিচে ঝুলন্ত এবং ঘাড় বাঁকা অবস্থায় ছিলো। হাতে দড়ি দিয়ে বাঁধার রক্তজমাটবদ্ধ আঘাত দৃশ্যমান ও হাতে কব্জিতে কাটা দাগ ছিলো। পরবর্তীতে আমার ছেলের বউ মরজিনা আক্তার আমার মেয়ে রুমানার মরদেহ গোসল কালে শরীরের বিভিন্ন অংশে অর্থাৎ হাতে, পায়ে, বুকে ও পিঠে কালো কালো দাগের আঘাতের চিহ্ন দেখেছে। যার প্রেক্ষিতে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি আমার নেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে হত্যাকান্ডের ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করার জন্য সিলিং ফ্যানের হুকে ওড়না প্যাচিয়ে ড্রইং রুমে আত্মহত্যা করেছে বলে তার শশুড় বাড়ির লোকজন প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে আমরা থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলে আমরা মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে সি, আর মামলা নং-৪৭১ / ২০২২ নং মামলা দায়ের করি যা বর্তমানে বোয়ালখালী থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।

এমতবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

প্রসঙ্গগত,গত ৬ ডিসেম্বর গৃহবধূ রুমানা আকতার (২২ )কে শশুড়বাড়ির নিজ ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রুমানা আকতার উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকার মোবারক আলী প্রকাশ মজ্জ্যরে বাড়ির প্রবাসী আবু তৈয়বের স্ত্রী। তাঁদের ২ বছরের রায়হান নামের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।