রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী

নিখোঁজ রিপা আক্তার।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় রিপা আক্তার (২১) নামে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী গত ৮ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারী) রাত ৯ টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবী পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে সে নিরুদ্দেশ হয়েছে। অন্যদিকে বাপের বাড়ির লোকজন বলছে তাকে যৌতুকের দাবিতে পরিকল্পিতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ গৃহবধূ রিপা আক্তার উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের পূর্ব কোদালা মোহাম্মদপুর ৮নং ওয়ার্ড এলাকার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

স্বামী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানায়,  (১৫ জানুয়ারী ) তিনি তার কর্মস্থল মহালছড়ির ছয় এপিবিএন-এ কর্মরত ছিলেন। তার বড় ভাই তাকে মুঠোফোনে তার স্ত্রীর চলে যাওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ঘরে এসে জানতে পারেন, সেদিন দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সকলের অগোচরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন তার স্ত্রী। যাওয়ার সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে গেছে।

তিনি দাবী করে বলেন, “যাওয়ার সময় রিপা নগদ ৪ লাখ ৯৩০০ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণলাংকার নিয়ে গেছে। কয়েকটি ব্যাগসহ তার যাওয়ার দৃশ্য সড়ক পথে একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বুঝা গেছে রাত আড়াইটার দিকে সে গেছে। ফেরিঘাটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সেদিন রাত আড়াইটার পর সাইফুল্লাহ নামে এক সাম্পানওয়ালার সাম্পানে তিনজন ছেলের সাথে কর্ণফুলী নদী পাড় হয়েছেন। সম্ভবত কোন পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে সে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।”

জানতে চাইলে সাম্পান মাঝি সাইফুল্লাহ বলেন, “রাত আড়াইটার দিকে দুইজন লুঙ্গি পড়া এবং একজন প্যান্ট পড়াসহ মোট তিনজন এসে বলেন, তার বোন নদীর ওপারে এসেছেন। দাদী মারা গেছেন, তাই তাকে আনতে এসেছেন। আমাকে আসা-যাওয়া ভাড়াতে নিয়ে গেছে। মেয়েটি নৌকায় ওঠার পর কান্নাও করছিল।”

রিপার শ্বশুর জাকির হোসেন বলেন, “গত দুই বছর আগে আমার ছেলের আপন মামাতো বোন চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকার মোহাম্মদ সেকান্দরের মেয়ে রিপা আক্তারকে বিয়ে করিয়েছিলাম। বিয়ের পর থেকে তাদের কোন পারিবারিক সমস্যা ছিল না। তবে সে প্রায়শই মুঠোফোনে কথা বলতো। জিজ্ঞেস করলে বলতো, আমার ছেলের সাথে কথা বলছে। কিন্তু সে বাইরের কোন ছেলের সাথেই কথা বলছে। কললিস্ট বের করে দেখেছি একমাসে এক হাজার ১২ পেজের কথা বলার তালিকা।”

এদিকে মেয়েকে খুঁজে পেতে আকুতি জানিয়ে অসহায় পিতা মোহাম্মদ সেকান্দর বলেন, “যৌতুকের জন্য পরকিয়ার ঘটনা সাজিয়ে তারা আমার মেয়েকে লুকিয়ে রেখেছে। আমার মেয়েকে খুঁজে পেতে আমি আইনানুগ ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এই ব্যাপারে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মো. মামুন বলেন, “পুলিশ সদস্যের স্ত্রী’র নিখোঁজের ব্যাপারে একটি নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। তাকে খোঁজ পেতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”