রাঙ্গুনিয়ায় অতর্কিত গুলিতে যুবক খুনের ঘটনায় থানায় মামলা, গ্রেফতার ১

মো. নজরুল (৪০)।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অতর্কিত গুলিতে যুবক খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকালের দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলাটি করেন নিহত মোজাহেদের ভাবী শাকি আকতার। মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. কামালকে প্রধান করে ৯ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে অভিযান চালিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামী মো. নজরুলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিকেলের দিকে তাঁকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব মিলকী বলেন,“ মামলার প্রধান আসামীসহ অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের এজাহার মিয়া ফকির বাড়ি এলাকার একটি দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় স্থানীয় হারুনের ছেলে দিদারকে খুজতে নানা অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার বাড়িতে যান। তাকে না পেয়ে তার মায়ের সামনে তার ছোট ভাই মোজাহেদকে লক্ষ্য করে হঠাৎ অতর্কিত ছোড়া হয় গুলি। তাঁর পায়ে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সেখান থেকে স্থানীয় হাসানের চায়ের দোকানে ঢুকে সেখানেও দিদারকে খুজতে থাকে এবং দোকানে আড্ডারতদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন দোকানে বসে থাকা আরও পাঁচজন। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে তাঁদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১০  টার দিকে মোজাহেদ মারা যান। অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছে।  এই ঘটনায় সরফভাটা জুড়ে আতংক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, “ মামলার প্রধান আসামী মো. কামালের সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিল স্থানীয় মো. দিদার। সম্প্রতি ওই দল থেকে তিনি বেরিয়ে আসায় আক্রোশে তাকে মারতে আসে সন্ত্রাসীরা। দিদারের সাথে তার ছোট ভাই নিহত মোজাহেদের চেহারার মিল থাকায় দিদার মনে করে মোজাহেদের ওপর গুলি চালায় তারা। আতংক ছড়াতে দোকানে বসে ৫ দিন মজুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং অন্তত ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সন্ত্রাসী কামালের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে তার বিশাল একটি দল রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরও সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। পুলিশকে আন্তরিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দমন করতে হবে।”