রমজানে পণ্য আমদানি সহজ করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: আগামী রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যাংকগুলোকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা সহজ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার বিকালে ব্যাংকার্স সভায় এ নির্দেশ দেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভা শেষে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক। এছাড়া বৈঠক থেকে আরও কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় বেশিরভাগ ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

মুখপাত্র মেজবাউল হক জানান, নিয়মিত ব্যাংকার্স সভায় সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যাংক খাতের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-আগামী রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। এজন্য আমদানি ঋণপত্র (এলসি) সহজ করার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে এলসি খোলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতি-সহায়তা দেওয়া হবে। এ সময় রোজায় প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, খেজুর, ফলমূল এবং চিনিসহ নিত্যপণ্যের আমদানি অর্থায়নের ক্ষেত্রে মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষি খাতে সর্বোচ্চ ঋণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে এই খাতের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে তা পূরণের জন্য যাদের সক্ষমতা আছে তাদের সহযোগিতা নিতে হবে। সভায় ব্যাংক গ্রাহকদের হয়রানি না করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, ইদানীং টাকা জমা দিতে গেলে বিভিন্ন আমানতকারী ব্যাংকারদের জবাবদিহিতার শিকার হচ্ছেন। তাই অন্তত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে যাওয়া কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রশ্নের মুখোমুখি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মেজবাউল হক বলেন, হুন্ডি বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে যাতে কোনো টাকা পাচার না হয় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি অব্যাহত রয়েছে। ঋণ অনিয়মের প্রশ্নের জবাবে মেজবাউল হক বলেন, ঋণ অনিয়মের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করছে। এ তদন্ত শেষ হলে মূল ঘটনা জানা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র আরও জানান, ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তর ব্যাংক। ব্যাংকটির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ তদারকি বহাল আছে। ব্যাংকটির আমানত নিরাপদ রয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। এছাড়া সভায় ব্যাংকগুলো যাতে নিজেদের মধ্যে এক্সচেঞ্জ রেট নিয়ে প্রতিযোগিতা না করে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সভা শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, মাসখানেক আগে আমানতকারীরা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বাসের সেই সংকট কেটে গেছে। আমানতকারীরা পুনরায় টাকা ফেরত দিচ্ছেন। ব্যাংকে রাখছেন। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। সহসাই ডলারসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি।

ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার নিয়ে দুই রকম বক্তব্য দিচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ভোক্তা ঋণের সুদহার ১২ শতাংশে উন্নীত করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ ধরনের কোনো মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ভোক্তা (ব্যক্তিগত, গাড়ি ইত্যাদি) ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফেলেছে অনেক ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ভোক্তা ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার মৌখিকভাবে ১২ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে বাস্তবায়নও করেছি। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করছে। কোনো ব্যত্যয় বা অনিয়ম পেলে নিশ্চয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানান, ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের বিষয়টি সার্কুলার জারি করে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রয়োজন হলে আবারও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।