মায়ানমারের চোরাই গরু রামু – নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ী পথ দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ঢুকছে। থামানো যাচ্ছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেট!

মায়ানমারের চোরাই গরু রামু - নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ী পথ দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ঢুকছে। থামানো যাচ্ছে না প্রভাবশালী সিন্ডিকেট!
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রামু প্রতিনিধি: কক্সবাজারের রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে অবাধে আসছে গরু-মহিষ। চোরাই গবাদিপশুতে সয়লাব হয়ে গেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড়, জোয়ারিয়ানালা, সহ আশপাশের সব হাট-বাজার। অবৈধভাবে আসা এসব গরু-মহিষ চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, দু ছড়ি, লামার, আলীকদম সহ নানা স্থান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায়। এর ফলে দেশীয় গরুর খামারিরা যেমন পড়েছেন নিদারুণ বিপাকে, তেমনি সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। এদিকে রামু পুলিশ প্রশাসন বলছে, এসব অবৈধ পশুর হাট বন্ধ করতে ইতিমধ্যে উদ্যোগী হয়েছে তারা। কিন্তু এখনও প্রতিদিনই বসছে অবৈধ হাট আর হাটগুলোতে চোরাই গরু-মহিষের ব্যবসাও চলছে ধুন্ধমার।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে রামু থানার পুলিশ উপজেলার কয়েকটি পাহাড়ী চোরাই গরুর পথে অভিযান চালিয়ে বিপুলসংখ্যক গরু মহিষ জব্দ করেছে। চলিত মাসের ২ই জানুয়ারি রামুর জোয়ারিয়ানালা গহীন অরন্য থেকে অভিযান চালিয়ে রামু থানা ২২টি মায়ানমারের গরু জব্দ করে। জানা যায় রামু থানাধীন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাসুদ রানার সহযোগিতায় রামু থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়। পরে গরু ২২টি আদালতের আদেশে নিলামে দিয়ে বিপুলসংখ্যক রাজস্ব জমা হয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এরই অংশ হিসেবে রামু থানার আওতাধীন কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি অভিযানে ৪টি বার্মিজ গরু আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাসুদ রানার দিকনির্দেশনায় এসআই মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইউনিয়নের পশ্চিম ফাক্রির কাটা এলাকায় মিয়ানমার থেকে চোরাই পথ দিয়ে অবৈধভাবে আসা মালিক বহীন এসব গরু আটক করতে সক্ষম হন গর্জনিয়া পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাসুদ রানা জনান গরু চোরাচালান, মাদক,অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে। এদিকে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং চকরিয়ার মানিকপুর থেকে শতাধিক গরু-মহিষ জব্দ করেছে বিজিবি। চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক গরু জব্দ করে নাইক্ষ্যংছড়ির তীরডেপা বিজিবি ক্যাম্প। জব্দকৃত গরুগুলো পরে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মিয়ানমার থেকে গরু-মহিষ পাচারের অথ্য জোগাড় করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবান সীমান্ত নতুনভাবে গরু পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই পথে মাসে অন্তত ২০ কোটি টাকার গরু-মহিষ দেশে আসছে। পাচারের কাজে মুনাফা লাভ করছে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গবাদিপশু পাচারের অর্থে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে তারা। তা ছাড়া দেশের খামারিদের অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে। এ অবস্থা আরও করুণ হবে সামনে। নতুন করে খামার করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন দেশীয় গরুর খামারিরা। তাই এখনই এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।