মধ্যরাতে জনপ্রতিনিধি রোমান মহসিনের নির্লোভ জনসেবায় মুদ্ধ শহরবাসী

নিজের মজুদকৃত তেল কয়েকশো যানবাহনে পূর্বের মূল্যে দিলেন রোমান মহসিন

প্রতিটি পাম্প হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে গাড়ি চালকরা
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রথম সারির গণমাধ্যম গুলোতে সারাদেশে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই শুক্রবার দিবাগত রাত আট’টা থেকে নয়টার মধ্যেই পুরো রাঙামাটি শহরের সর্বত্রই প্রায় সবগুলো তেলের পাম্প মালিকরা নিজেদের মজুদে থাকা তেলগুলো রাত পোহালেই ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশায় পাম্প বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে দাম বাড়ার সংবাদ শুনে রাত ১০টার পর থেকেই তেল সংগ্রহের লক্ষ্যে তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমাতে থাকে কয়েক শতাধিক মোটর সাইকেল, অটোরিক্সাসহ প্রাইভেট গাড়ি। কিন্তু কেউ-ই তেল কিনতে পারছিলোনা। প্রতিটি পাম্প হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে গাড়ি চালকরা।

বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে রাঙামাটি  শহরের বনরূপাস্থ নিজের মালিকানাধীন তেলের পাম্প রাত বারোটা পর্যন্ত খোলা রেখে নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কারসহ অন্তত দুই যানবাহনে পূর্বের মূল্যে তেল সরবরাহ করেছেন রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান। জনপ্রতিনিধির নির্লোভ জনসেবার বিরল এই চিত্র মুগ্ধ করেছে রাঙামাটি শহরবাসীকে।

মোটর সাইকেল চালক তন্ময় চাকমা উপজেলা চেয়ারম্যান ও পেট্রোল পাম্প মালিক রোমানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমি শনিবার সকালে নিজ মোটর সাইকেল যোগে খাগড়াছড়ি যাবো, তেলের দাম বেড়েছে শুনে তড়িগড়ি করে তেল কিনতে বাসা থেকে বের হই। শহরের আসামবস্তি, রাঙাপানি, ভেদভেদী, কল্যাণপুর, রাজবাড়ি, তবলছড়ি, পুরাতন বাস স্টেশন ও  কাঠাঁলতলী ঘুরে সবগুলো তেলের পাম্প বন্ধ পেয়ে খুবই হতাশ হয়ে ফেরার সময় বনরূপা পেট্রোল পাম্পটি খোলা দেখে সেখানে গিয়ে পূর্বের মূল্যেই তেল সংগ্রহ করি। আমার মতো অনেকেই এসময় লাইনে দাড়িয়ে তেল কিনে নিয়ে গেছে সেটাও দেখলাম।

শহরের ভেদভেদী নতুন পাড়া থেকে তেল কিনতে আসা মধ্যবয়সী একজন অটো চালক জানালেন, পাম্পে মজুদকৃত তেল শনিবার সকালে বিক্রি করলে অন্তত কয়েক লাখ টাকা অধিক মুনাফা করতে পারতেন রোমান সাহেব। কিন্তু তিনি কতো বড় মনের অধিকারি এবং কতোটা নির্লোভ সেটা আজ প্রকাশ হলো। বৃষ্টির মধ্যে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িগুলোতে পূর্বের মূল্যে তেল বিক্রি করছেন তিনি। একজন জনপ্রতিনিধির তার জনগণের প্রতি এমনই দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। গালিব নামের একজন বাইকার বলেন, আমাদের সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান রোমান ভাইয়ের মতো অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও যদি রাঙামাটিবাসীর বিপদে সময়মতো পাশে দাঁড়ায় তাহলে চলমান এই দুর্দিনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজনের দূর্ভোগ কিছুটা হলেও কমতো।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে রাঙামাটির প্রসিদ্ধ হাজী মহসিন পরিবারের মেঝো সন্তান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান মহসিন রোমান বলেন, মহাণ আল্লাহ আমাকে তার রহমতের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত করিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমি জনপ্রতিনিধি। জনগণের প্রতি দ্বায়বদ্ধতার বিষয়টি সবসময়ই মনে রাখার চেষ্ঠা করি। বৈশ্বিক কারনে আমাদের দেশেও বর্তমানে একটি সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজমান করছে।

এমতাবস্থায় আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার। আমার পাম্পে মজুদকৃত যে পরিমান তেল রয়েছে তার সবটুকুই আমি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুষ্ঠভাবে সকলেই যাতে তেল নিতে পারে সেই লক্ষ্যে আমি নিজে উপস্থিত থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত তেল বিক্রি করেছি। শনিবার থেকে সরকার পাইকারী যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই মূল্যে তেল ক্রয় করবো এবং খুচরা যে মূল্য ধার্য্য করে দিয়েছে সেই মূল্যে তেল বিক্রি করবো। সরকারের মূল্য বর্ধিতের সিদ্ধান্তে অন্যসকল পেট্রোলপাম্প মালিকরা যখন মুনাফার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রাতের বিছানায়; এমন দুঃসময়ে  জনপ্রতিনিধি রোমানের দায়িত্বশীর নির্লোভ জনসেবায় মুগ্ধ করেছে রাঙামাটি শহরবাসীকে। বাইকার থেকে শুরু করে প্রাইভেট কার, অটোরিক্সা চালক সকলেই রোমানের ভূয়সী প্রশংসা করছেন শহরের সর্বত্র।