ব্যবসায়ীকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে ২০ হাজার টাকার চুক্তি

ব্যবসায়ী মূসা
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাড়িতে তুলে নিয়ে কোহিনুর আক্তার নামে এক নারীকে ধর্ষণ করে মুসা নামে এক ব্যবসায়ী। এরপর ওই নারী এ ঘটনা গিয়ে জানায় তার স্বামী ইব্রাহিমকে। তাৎক্ষণিক ওই নারীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যায় তার স্বামী। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে স্বামীর পরামর্শে থানায় ধর্ষণের অভিযোগও করেন ওই নারী। কিন্তু এ সবই ছিল ‘টাকার কন্ট্রাক্টে’ সাজানো একটি নাটক। যা বেরিয়ে আসে পুলিশি তদন্তে।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই নারী সিএমপির বাকলিয়া থানায় এ অভিযোগ করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত স্পিডবোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী মো. মুসা আলমকে।

অভিযোগে তিনি বলেন— মুসা তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এরপর তাকে ফেলে গেলে বাসায় গিয়ে জানায় স্বামী ইব্রাহিমকে। তার স্বামী এরপর তাকে চমেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করায়।

পুলিশ জানায়, ওই নারীর স্বামীর পরিচিত দু’জন ব্যক্তি তাকে প্রলোভন দেখায় ধর্ষণ মামলা করতে পারলে তাকে নগদ ২০ হাজার টাকা দিবে এবং তার স্বামীকে বিদেশ পাঠাবে। আর এ প্রলোভনে পড়েই ধর্ষণের এ মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছিল।

ধর্ষণের নাটক সাজানোর কথা অকপটে স্বীকার করে কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘যাদের থেকে টাকা নিয়েছি তাদের আমি চিনিনা। তারা আমার স্বামীর পরিচিত। তারা আমার স্বামীকে  বলার পর আমার স্বামী আমাকে বললে আমি প্রথমে না করি। এরপর সে আমাকে অভয় দিয়েছে যে কিচ্ছু হবেনা।’

এদিকে এ মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগের পেছনে রয়েছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ— এমন অভিযোগ ফাঁসানো ব্যক্তিদের। ব্যবসায়ী মুসা আলম সিপ্লাসকে বলেন, ‘যে নারীকে দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল আমি তাকে চিনিওনা। এই অভিযোগ পেয়ে থানা থেকে প্রথমে আমাকে ফোন করে। এরপর আমি থানায় যাই। এরপর তারা সবকিছু তদন্ত করে। এরপর দেখা গেল, এটা সম্পুর্ণ সাজানো একটি নাটক। ওই মহিলাও স্বীকার করেছে তা।’

তিনি আরো বলেন, ‘পতেঙ্গার স্থানীয় মাসুদ ওরফে কুত্তা মাসুদ, হারুন এবং ঈসমাইল নামে তিন ব্যক্তি আমাকে ফাঁসাতে টাকা দিয়ে এই কাজ করেছে। এরা স্থানীয়দের কাছে চাঁদাবাজ হিসেবেই পরিচিত। আমি রাজনীতি করলেও সৎ ভাবে সী-বীচে ব্যবসা করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। যা তাদের সহ্য হচ্ছেনা। আমার ভাল কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে ফাঁসাতে এই কাজ করিয়েছে।’

‘আমি এর প্রতিকার চাই। এই যে আজকের যে ঘটনা… আমার ফ্যামিলি আছে, বউ-বাচ্চা আছে। এছাড়া ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় সুনাম আছে। এই ঘটনায় আমি আমি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। আমাকে থানা-পুলিশ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। তারা সত্য বের করে ব্যবস্থা নিবে বলে আমার বিশ্বাস।’ যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এ এন নুরুজ্জামান বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই নারীর স্বামীর পরিচিত দুইজন ব্যক্তি প্রলোভন দেখায় যে এই কাজটা করতে পারলে নগদ ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে এবং তার স্বামীকে বিদেশে পাঠাবে। এজন্যই মূলত ওই নারী এমন কাজ করেছে।’

তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম।