বিপিএম পদক প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত রাউজান-রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশরা

‘শামীম আনোয়ার স্যার না, আসলে জয় হয়েছে সততা ও নিষ্ঠার'

রাউজান(চট্টগ্রাম) রাঙ্গুনিয়া সার্কেল (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীমকে বিপিএম পদকের ব্যাজ পড়িয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাউজান প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের এএসপি (রাঙ্গুনিয়া – রাউজান) আনোয়ার হোসেন শামীমকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পুলিশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদক বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদকে ভূষিত করায় খুশি ও উদ্দীপ্ত জেলায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরাও। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান বিসিএস (পুলিশ) কর্মকর্তার হাতে এই পুরস্কারটি উঠায় উচ্ছসিত তারা।

প্রতিবেদনটি প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদক চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা, রাউজান থানাসহ বিভিন্ন ক্যাম্প, ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিবেদকের সাথে কথোপকথনে রাঙ্গুনিয়া থানার কনস্টেবল আরিফ হোসেন বলেন, ‘সার্কেল স্যার যখন থানায় আসেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, বুঝাই যায় না যে, উনি একজন বিসিএস ক্যাডার, এত বড় একজন অফিসার। একজন রিকশাওয়ালা বা ঝাড়ুদারকে উনি যেইভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলেন, অবাক লাগে। স্যার পুরস্কার পাওয়াতে আমরা অনেকে নিজেরা মিষ্টি কিনে খেয়েছি, আমরা খুব খুশি’।

রাউজান থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেনের মন্তব্য, ‘আমার দীর্ঘ চাকুরী জীবনে আমি অনেক সিনিয়র অফিসারের সাথে কাজ করেছি। কিন্তু আমাদের সার্কেল এএসপি স্যারের মতো অফিসার আমি সত্যি কোনো দিন দেখি নাই। আমি শুধু সততা বলব না, স্যার একজন প্রকৃত নিষ্ঠা ও আদর্শবান কর্মকর্তা। এক পয়সা ঘুষ-দুর্নীতি দূরে থাকুক, কোনো উপলক্ষে তার অফিসে মিষ্টি বা ফলফলাদি নেওয়াও তিনি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেন। উল্টো থানায় আসার সময় তিনি ফোর্সের জন্য এটা সেটা নিয়ে আসতেন, যা আমাদের মনোবল বৃদ্ধ করতো। এক কথায় আমি বলব, শামীম আনোয়ার স্যার না, আসলে জয় হয়েছে সততা ও নিষ্ঠার। আমরা চাই, এমন অফিসার আরো অনেক অনেক উপরে যাক’।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মিল্কির সাথে। তিনি জানান, ‘আজ প্রায় আড়াই বছর তিনি  এখানে কর্মরত আছেন, আমি আজ পর্যন্ত তাকে এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়াতে পারি নাই। শুধু তাই নয়, আমার দায়িত্বাধীন এলাকার কোনো সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও একটি পয়সা বা ন্যূনতম সুবিধা নিয়েছে, তা আজ পর্যন্ত শুনি নাই। একজন বিসিএস পুলিশ  ক্যাডারের অফিসার কিন্তু এত সৎ ও  অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষটির উপযুক্ত মূল্যায়ন হওয়ায় আমি খুব খুশি’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, রাঙ্গুনিয়া সার্কেল এএসপিকে পদকটি দেওয়ায় তাদের কাছে পদকটির ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মনেও এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, সততা, কর্মদক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে এর প্রতিফল মিলবেই।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১৫ জন পুলিশ সদস্য ‘বিপিএম’(বাংলাদেশ পুলিশ পদক) পেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ ১ জানুয়ারি পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।গত মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশের বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদেরই একজন চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন শামীম।