বাংলাদেশের সাথে গালফ কোপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বাংলাদেশের সাথে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সহযোগিতার বিষয়ে অংশীদারিত্ব সংলাপ এর একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সৌদি আরব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সাথে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সহযোগিতার বিষয়ে অংশীদারিত্ব সংলাপ এর একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও জিসিসির পক্ষে সংস্থাটির মহাসচিব ড. নায়েফ ফালাহ এম আল-হাজরাফ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। বাহরাইনের মানামা ডায়ালগ কনফারেন্সের সাইডলাইনে আজ (১৯ নভেম্বর) এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও জিসিসি মহাসচিব নায়েফ আল হাজরাফে এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন।

এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জিসিসিভুক্ত দেশসমূহ ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানী নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা, বানিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ লক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসী জিসিসিভুক্ত দেশে কর্মরত রয়েছে যারা জিসিসি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। এ সকল দেশে আরও বেশি দক্ষ অভিবাসী কর্মী নিয়োগের আরো সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে মানি লন্ডারিং বা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বাংলাদেশ ও জিসিসি দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। মানি লন্ডারিং ও অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বন্ধ করার বিষয়ে জিসিসির সাথে একসাথে কাজ করার আহবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জিসিসি দেশসমূহ এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম জ্বালানী যোগানদাতা অঞ্চল এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জিসিসিভুক্ত দেশের সাথে বাংলাদেশের একটি জ্বালানী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির বিষয়ে মহাসচিবের সাথে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা সব দেশের জন্য একটি অভিন্ন অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক এবং আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশ ও বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাক, পাট, চামড়াজাত পণ্য, চা এবং ওষুধ রপ্তানি করে থাকে। চাল, সবজি ও মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। বর্তমানে বাংলাদেশ জিসিসি দেশগুলোতে অনেক পণ্য রপ্তানি করছে। জিসিসির বাজারে বাংলাদেশের মানসম্মন্ন পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জিসিসির সাথে বাংলাদেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশ প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ এই সমস্যার কারণ এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে জিসিসি সচিবালয়ের সহায়তা প্রত্যাশা করে।