ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎতায়নে ব্যাপক দূর্নীতি

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে দালাল চক্র সাধারণ গ্রাহকের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের ঝিলতলি গ্রামের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ চাহিদা মেঠাতে সরকারি অর্থায়নে মাষ্টার প্লানের মাধ্যমে সম্প্রতি বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজ শুরু হয়। সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এলাকার এক শ্রেণীর দালাল চক্র এলাকার নিরীহ সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা বাজার থেকে ঝিলতলি গ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ বার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ চাহিদা মেঠাতে সরকারি অর্থায়নে বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কাজ শুরু হতে না হতেই উক্ত ইউনিয়নের কড়ইতলী, পূর্ব সোনাই, কালাকুম, বালু টিলা, মোহাম্মদ পুর ও শোভনছড়ি গ্রামের ছয়’শ পরিবারের নিকট থেকে স্থানীয় এক দালাল চক্র পরিবার প্রতি দু’হাজার টাকা থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে হাতিয়ে নেয়। এতো বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও রহস্য জনক কারণে কর্তৃপক্ষ বলছে তারা কিছুই জানে না।

এলাকাবাসীরা জানায় ,দাঁতমারা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য ইউছুপ মেম্বার এবং সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান মেম্বারসহ ১১ জনের একটি সিন্ডিকেট এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে এ বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ¯’ানীয় ভোক্তভোগী মো: হানিফ, মো: রহিম , এমরান হোসেন ও বেলাল উদ্দীন জানান, তারা প্রত্যেকে কেউ ৫ হাজার, কেউ ৭ হাজার আর কেউ কেউ ৮/১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছে ইউছুপ মেম্বারকে। কি বিষয়ে টাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, খুঁটি বসানো বাবদ খরচ ও মিটার বাবদ খরচ হিসেবে তাঁরা এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দাঁতমারা ইউপি সদস্য ইউছুপ মেম্বার বলেন , এই বিষয়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সম্পৃক্ততাও নেই। আমি কারো কাছ থেকে এক টাকাও নেয়নি। এলাকাবাসী আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো কেন , এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, আমি যদি দোষী হই, আমার বিচার হবে! আরেক অভিযুক্ত সাবেক ইউপি মেম্বার শফিউর রহমান টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ৬ হাজার নয়, তবে ৪ হাজার ৩ শত টাকা নেয়া হয়েছে। কি জন্য এ টাকা নেয়া , জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা আমি নেইনি। এলাকায় এলাকায় ক্যাশিয়ার করে দিয়েছি, তারাই টাকা নিয়েছে। অফিসিয়াল খরচের জন্য।

এ প্রসঙ্গে দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। কোন সুনির্দিষ্ট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আমি পাইনি। ভোক্তভোগী যারা, তারা যদি অভিযোগ না করে আমাদের করণীয় কিছু থাকে না।

তিনি আরো বলেন, এ বিষয় গুলো তারাই করে, যারা ইলেক্ট্রিশিয়ান ও টিকাদার। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফটিকছড়ি জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারী ভাবে মিটারের জন্য ৪ শত টাকা, আবেদনের জন্য ১ শত টাকা, মেম্বারশীপ বাবদ ৫০ টাকা সহ সর্বমোট ৫ শত ৫০ টাকা বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ নেয়া হয়ে থাকে। এর বাইরে আর কোন টাকা নেয়ার সুযোগ নাই। অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি অভিযোগটা কেবল মাত্র শুনেছি। আমি আজকেই ওখানে লোক পাঠাব। প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রায়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করবো। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

এব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সায়েদুল আরেফিন বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। তবে আমি পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম কে এখনি ফোন দিছি। সত্যতা পেলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। তবে এসব বিষয়ে, সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে ভাল হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়। তবুও আমি ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছি।