‘পানির বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তি স্বাক্ষর করল জর্ডান-ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ ইসরায়েল ও জর্ডানের মধ্যে ‘পানির বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোমবার মিশরের উপকূলীয় শহর শার্ম আল শেখে জর্ডানের রাজা ২য় আবদুল্লাহ ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জর্ডান থেকে প্রতি বছর ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করা হবে ইসরায়েলে; তার পরিবর্তে ইসরায়েল প্রতি বছর ২০ কোটি ঘণমিটার পানি সরবরাহ করবে জর্ডানকে।

বিশ্বের যেসব দেশে বছরের সবচেয়ে বেশিদিন ব্যাপক সূর্যালোক পড়ে, সেসবের মধ্যে জর্ডান অন্যতম। বছরের ৩০০ বা তারও বেশি দিন সূর্যের উজ্জল ও উষ্ণ আলো পড়ে জর্ডানে। ইসরায়েলে প্রতি বছর যে বিদ্যুৎ পাঠাবে জর্ডান, তার পুরোটাই হবে সৌরবিদ্যুৎ। সূর্যের আলো ও তাপকে ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইসরায়েলে পাঠাবে জর্ডান।

তবে যথেষ্ট সূর্যালোক পড়লেও পানির হাহাকার রয়েছে জর্ডানে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, টানা খরা ও অনাবৃষ্টির ফলে স্বাদু পানির মজুত দ্রুত কমছে জর্ডানে। চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই দেশটির ভূগর্ভস্থ পানির মজুত তলানিতে ঠেকেছে, এবং সরকারি ১৪টি পানি সংরক্ষণাগারের ৬টিই শুকিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, একসময় পানির অভাবে ভোগা ইসরাইল বর্তমানে পান ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারযোগ্য পানি উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি করেছে। দেশটিতে বার্ষিক পানির চাহিদা ২০০ কোটি ঘণমিটার। এই পানির অর্ধেক ভূগর্ভস্থ ও ভূমির উপরিভাগের বিভিন্ন জলাশয় থেকে সংগ্রহ করা হয়, বাকি পঞ্চাশ শতাংশ জোগাড় করা হয় সমুদ্রের পাণি লবণমুক্তকরণ ও ব্যবহৃত পানি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে।

গত একবছর ধরেই এই চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা চলছিল জর্ডান ও ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। এই সময়সীমার মধ্যে জর্ডানের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও শেষ হয়েছে।

অবশেষে ৭ নভেম্বর ‘পানির বিনিময়ে বিদ্যুৎ’ চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা এই প্রথম ঘটল।