নিজ দলের ষড়যন্ত্রের শিকার যুবদল নেতা

খুরশিদ আলম ভূঞা।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজীতে সাবেক স্কুলশিক্ষক রবিন্দ্র দাশের জমি বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা। তিনি বিষয়টিকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক, মিথ্যা ও প্ররোচনামূলক হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

থানা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর সোনাগাজীর উত্তর চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মৃত অভয় চন্দ্র দাশের ছেলে সাবেক স্কুলশিক্ষক রবিন্দ্র কুমার দাশ (৭০) স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে মতিগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে ৭৭৯১ এবং ৭৭৯২ নং দলিলের মাধ্যেমে ১৯১ শতক ভূমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলমগীরের কাছে বিক্রি করেন। জমাখারিজ করা ভূমির জন্য সাফকবলা দলিল ও জমাখারিজবিহীন জমির দানপত্র দলিল সম্পাদন করেন।

জমি রেজিস্ট্রি করার পাঁচ দিন পর বিক্রিত জমির টাকা না দিয়ে প্রতারণা এবং জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি নেয়ার অভিযোগ এনে রবিন্দ্র কুমার দাশ দলিল গ্রহীতা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ফেনীর পুলিশ সুপারের কাছে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

দলিল গ্রহীতা মোহাম্মদ আলমগীর ও জমি বিক্রির মধ্যস্থতাকারী নাছির উদ্দিন উল্টো রবিন্দ্র কুমার দাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, রবিন্দ্র দাশের মালিকীয় জমিগুলো দীর্ঘ আট বছরের অধিক সময় রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন নাছির উদ্দিন। ১ একর ৯১ শতক জমি রবিন্দ্র কুমার বিক্রির প্রস্তাব করলে আলমগীরের সাথে মধ্যস্থতা করে দেন নাছির। প্রতি শতক জমি ৪২ হাজার টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮০ লাখ ২২ হাজার টাকা। সমুদয় টাকা গ্রহীতা আলমগীর ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে চাইলে বিক্রেতা রবিন্দ্র কুমার ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ না করে নগদ গ্রহণ করতে চান। কয়েক দফায় ৮০ লাখ ২২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন গ্রহীতা। রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনের পরপর সম্মানী বাবদ আরো এক লাখ টাকা প্রদান করেন।

দলিলদাতা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা ভারতে পাঠাবেন বলেই নগদ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি বেশিরভাগ সময় ভারতে থাকার সুবাধে হুন্ডির মাধ্যমে টাকাগুলো ভারতে পাচার করতে পারেন বলে দাবি করেছেন ক্রেতা আলমগীর ও সহযোগী নাছির উদ্দিন।

সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা সম্পর্কে দলীল গ্রহীতা আলমগীর হোসেন জানান, যুবদল নেতা খুরশিদের সাথে তাদের পূর্বে কোনো পরিচয় ছিল না। ফোনে বা সামনাসামনি কখনো কথা হয়নি। দলিলে সাক্ষী ও শনাক্তকারীও নন। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে যুবদল নেতা খুরশিদকে অভিযোগে জড়ানো হলো তাও তারা জানেন না।

রবীন্দ্র কুমার দাস সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে জমির টাকা না দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি।’