নর্থ সাউথের সাবেক ট্রাস্টি শাহজাহানের জামিন

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: অর্থ আত্মসাতের মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রাস্টি মোহাম্মদ শাহজাহানকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার জামিন প্রশ্নে রুল মঞ্জুর করে আজ বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের বেঞ্চ।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী রাজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুটি শর্তে আদালত তাদের জামিন দিয়েছেন। একটি হলো তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। আরেকটি হচ্ছে, অনুমতি ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেতে পারবেন না। ’

এর আগে গত ১০ নভেম্বর সাবেক ট্রাস্টি এম এ কাশেম ও রেহানা রহমানকে একই শর্তে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে দুদক এ দুইজনের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে চেম্বার আদালত রেহানা রহমানের জামিন বহাল রাখলেও এম এ কাশেমের জামিন স্থগিত করেন। দুদকের আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান আদালত। পরে গত ২৮ নভেম্বর দুদকের আবেদন খারিজ করে এম এ কাশেমের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এর আগে গত ২২ মে মোহাম্মদ শাহজাহান শাহজাহানসহ চার ট্রাস্টির আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন তাদের বিচারিক আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জমি কেনা বাবদ অতিরিক্ত ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৫ মে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

আসামিরা হলেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আশালয় হাউজিং ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালী।

মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের অনুমোদন/সম্মতির মাধ্যমে ক্যাম্পাস উন্নয়নের নামে ৯০৯৬ দশমিক ৮৮ ডেসিমেল জমির দাম ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বেশি দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা আত্মসাতের জন্য কম দামে জমি কিনলেও বেশি দাম দেখিয়ে প্রথমে বিক্রেতাকে টাকা দেন। পরে বিক্রেতার কাছ থেকে নিজেদের লোক দিয়ে নগদ চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে আবার নিজেদের নামে এফডিআর করেন। পরে এফডিআর ভেঙে টাকা আত্মসাৎ করেন। এই প্রক্রিয়ায় টাকা আত্মসাত করে তারা অর্থ পাচারের অপরাধ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।