ডিএসইতে ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: টানা ছয় কার্যদিবস পতনের পর বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলেছে। তবে লেনদেন নেমেছে তলানিতে। ডিএসইতে প্রায় আড়াই বছর বা ২৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম) তুলে দেওয়ার পরের কার্যদিবসেই এমন লেনদেন খরা দেখা দিলো।

শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন দেখা দিলে গত ২৮ জুলাই প্রতিটি সিকিউরিটিজের ফ্লোর প্রাইস বেধে দেয় বিএসইসি। এতে শেয়ারবাজারে দরপতন কিছুটা কমলেও দেখা দেয় লেনদেন খরা। সম্প্রতি লেনদেন খরা আরও প্রকট হয়। সেই সঙ্গে দেখা দেয় টানা দরপতন।

ফলে ফ্লোর প্রাইসের সমালোচনা করে বিভিন্ন পক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে ১৬৯ প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা বিএসইসি। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন সার্কিট ব্রেকার (দাম বাড়া বা কমার সীমা) চালু করা হয়।

নতুন সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া ১৬৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম একদিনে এক শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। তবে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম কার্যকর হবে।

১৬৯ প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার কারণে শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়বে বলে আশা করছিলেন বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। লেনদেন বাড়ার বদলে আরও কমে গেছে। এতে ২০২০ সালের ১৬ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন লেনদেন দেখতে হলো বিনিয়োগকারীদের।

এ বিষয়ে ডিএসইর একাধিক সদস্য বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়েছে, বাজার মূলধনে তাদের অবদান খুবই সামান্য। বাজার মূলধনে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে অবদান ৫ শতাংশের মতো। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান মূল্যসূচকে খুব একটা প্রভাব রাখে না।

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পরও লেনদেন না বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে সর্বোচ্চ এক শতাংশ কমতে পারবে। সুতরাং ১০ টাকার নিচে দাম থাকা শেয়ার ও ইউনিটের দাম নতুন করে কমার সুযোগ নেই। ফলে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া হলেও, পরোক্ষভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে ফ্লোর প্রাইস রয়েই গেছে। যে কারণে আগের মতোই এসব প্রতিষ্ঠানের তেমন লেনদেন হয়নি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে শেয়ারবাজারে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। এতে লেনদেন শুরু হতেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের সময় ১০ মিনিট গড়ানোর আগেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ফলে আবারও দরপতনের শঙ্কা পেয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের।

তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার আভাস মেলে এবং মূল্যসূচক সামান্য বেড়ে শেষ হয় দিনের লেনদেন। এতে টানা ছয় কার্যদিবস পতনের পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলেছে।

সূচক বাড়লেও দাম বাড়ার তুলনায় দাম কামার তালিকায় রয়েছে বেশি সংখ্যাক প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে ৫২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০১টির। আর ১৫৬টির দাম অপরবর্তিত রয়েছে।

এরপরও ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ২০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ১৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেন কমে গেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ১০৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

লেনদেন শুধু আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেনি। ২০২০ সালের ১৬ জুলাইয়ের পর ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হলো। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই ডিএসইতে ২২৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়।

লেনদেন খরার বাজারে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সি পার্ল বিচ রিসোর্টের ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আট কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু এগ্রো।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বসুন্ধরা পেপার, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, জেনেক্স ইনফোসিস, এডিএন টেলিকম, ওরিয়ন ফার্মা, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯টির এবং ৭৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।