জোরারগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সং*ঘ*র্ষ, আহত ১১

জোরারগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সং*ঘ*র্ষ, আহত ১১।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মিরসরাই প্রতিনিধি:  মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ  মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের  সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত দশ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শেষ রাতে জোরারগঞ্জ বাজারে মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ বিন কামাল অনিক  ও সাধারণ সম্পাদক সেফায়েত হোসেনসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারিরা মেলা গেটে স্থাপিত ব্যানার, পেস্টুন ছিড়ে ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষে আহত অন্যান্যরা হচ্ছেন, আব্দুর রহমান (১৮) সাইফুদ্দিন রিফাত (১৭) রিয়াজ উদ্দিন (৩৬) আমজাদ হোসেন (২১) রাহুল বড়ুয়া (২৪) মো. তারেক হোসেন (২৬) মিরাজ আকবর (২০) সরোয়ার হোসেন (২২) কাউসার আহমেদ (৩০)। আহতরা সবাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, গত ২২ ডিসেম্বর মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে দশ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুরু হয়। মেলার শেষদিন শনিবার রাত সাড়ে চারটায় মেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটুর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

হামলায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চররাগুলিবৃদ্ধ হওয়ায় আহতদের মধ্যে সাত জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালর পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করতে না পারায় মেলার শেষ দিকে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটুর অনুসারীরা মেলার সাথে যুক্ত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় আহত নেতা কর্মীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটু  বলেন, শনিবার রাতে জোরারগঞ্জ বাজারের মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে আমার কিছু শুভাক্ঙ্খী ছেলেদের উপর প্রথমে হামলা করে তারা। পরে প্রতিরোধ করতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আমার শুভাকাঙ্খী ৫ ছেলে আহত হয়েছে। এ সংঘর্ষের সাথে আমি কোন ভাবেই যুক্ত নই।

আহতদের বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আদিত ইসমাইল বলেন, জোরারগঞ্জে মেলায় সংঘর্সের ঘটনায় হাসপাতালে আনা আহত ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। গায়ে চররাগুলি লাগায় আহত ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কারো জীবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নেই।

জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, জোরারগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শেষ সময়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারিদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪-৫ জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি আমরা। এ ঘটনায় এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি আমরা।