চোরাচালান রোধে চট্টগ্রাম বন্দরে বসছে চার কন্টেইনার স্ক্যানার

ছবি- সংগৃহীত।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চোরাচালান প্রতিরোধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মিথ্যা ঘোষণা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪টিসহ অত্যাধুনিক মোট ৬টি ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানার বসাতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ কাজে মনোনিত চীনা প্রতিষ্ঠান নুকটেক কোম্পানি লিমিটেডের সাথে গত বুধবার এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ছয়টি স্ক্যানার বসানোর জন্য এই প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চীনা প্রতিষ্ঠানটি স্ক্যানারগুলো স্থাপনের পর আগামী ৫ বছর সেগুলো রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এনবিআর সদস্য (শুল্ক : অডিট, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার ও নিউটেক কোম্পানির প্রতিনিধি এইচ ও ওয়ানি।

এর আগে এনবিআর থেকে মনোনিত চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে কাজের চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের জন্য ‘নোটিফিকেশ অব এওয়ার্ড’ পাঠানো হয়। এতে ৮ জানুয়ারির মধ্যে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা জামানত জমা দিয়ে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির সাথে চুক্তি করে এনবিআর।

উল্লেখ্য, এই ৬টি কন্টেইনার স্ক্যানার স্থাপনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২১ সালের সালের মার্চ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করে। গত বছরের ৩১ মার্চ দরপত্র আহবান করার পর বিভিন্ন গ্যাঁড়াকলে ৪ বার পিছিয়েছিল টেন্ডরের তারিখ (২৪ জুন, ১৫ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট)।

গতবছরের ২৫ আগস্ট টেন্ডার শেষে তিন প্রতিষ্ঠানের দরপত্র পাঠানো হয় মূল্যায়ন কমিটির কাছে। কিন্তু তাদের মধ্যেও যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এনবিআর। এর প্রেক্ষিতে এস্ট্রোফিজিক্স ইনকর্পোরেশন নামের এক দরদাতা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিভাগ ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ)’ এক অভিযোগ দাখিল করে। তবে এনবিআরের বিপক্ষে ওই অভিযোগ বাতিল করে সিপিটিইউ। পরে ওই দরদাতা আশ্রয় নেয় উচ্চ আদালতের। সেখানেও রায় এনবিআরের পক্ষে যায় এবং কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়।

পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস অডিট, মর্ডানাইজেশন এন্ড ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার) ড. আবদুল মান্নান শিকদার চলতি বছরের ২৬ মে পুনরায় একই দরপত্র আহবান করেন। যা এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে এবং একনেকের অনুমোদন নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হল। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতেই ২০ মাস সময় ব্যয় হলো।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে ৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে ‘এফএস ৬০০০’ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে ‘এফএস ৩০০০’ মডেলের ফিক্সড কন্টেইনার স্ক্যানার। এছাড়া সিসিটি ২ ও জিসিবি ২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার। তবে পুরোনো কয়েকটি স্ক্যানার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে গিয়ে স্ক্যানিং কাজে ব্যঘাত ঘটায়।