চবিতে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের অবরোধ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আশ্বাসে অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ক্যাম্পাসে অবরোধ শুরুর ৩৫ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় স্থগিতের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিজয় গ্রুপের নেতা ও উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক নয়ন চন্দ্র মোদক।

তিনি বলেন, আমরা চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছি। আমাদের একমাত্র অভিভাবক মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাইয়ের আশ্বাস পেয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দিকে যাব এখন।

ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধ নিয়ে আজ বেলা ১১টার দিকে ফেসবুকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তারপরই অবরোধ প্রত্যাহার করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ‘বিজয়’ উপপক্ষের নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা যে কমিটিতে পদ পাননি, তা শিক্ষা উপমন্ত্রী জেনেছেন। তাই তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীরকে জানানোর জন্যই অবরোধ ডাকা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর দিতে চাননি দেলোয়ার।

মহিবুল হাসান চৌধুরী তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, ছাত্রসংগঠনের পদপদবি বিষয়ে কোনো দাবিদাওয়া থাকলে সংগঠনের যেকোনো কর্মী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কোনো সাংগঠনিক দাবি থাকলে সেটি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সমাধান করা যায়। কিন্তু সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা, ভাঙচুর করা, অপহরণ করা, অপরাধের হুমকি দেওয়া, হত্যার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই ছাত্রসংগঠনের আদর্শিক কর্মীর কাজ হতে পারে না। যাঁরা এসব করছেন, তাঁরা ব্যক্তিস্বার্থেই অরাজকতা করছেন। তাঁদের কাছে সংগঠন বা শিক্ষার মূল্য আছে বলে মনে হয় না। নিজেদের সাংগঠনিক দাবিতে অপরাধমূলক সহিংসতা যাঁরা করছেন, তাঁদের বিষয়ে সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নাম ব্যবহার করে যাঁরা উপদল করেন, সংগঠনের মধ্যেও যাঁরা সংগঠন করেন বা অন্য কারও নাম ব্যবহার করে যাঁরা উপদল করেন, এটা তাঁদের জন্য বার্তা। সাংগঠনিক কোনো বিষয় থাকলে তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি, সম্পাদক রয়েছেন। তিনি তো আর ছাত্রলীগ করেন না। তিনি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রকও নন। তাঁর নামে কোনো পক্ষ হোক, সেটা চান না। সেটাও কাম্যও নয়। এগুলো সরাসরি অপরাধমূলক কাজ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, যাঁরা পদের দাবিতে ভাঙচুর করবেন, বিক্ষোভ করবেন, তার মানে সেই পদের মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর কোনো প্রাপ্তি আছে। সেই পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে তিনি চাকরির কোটা ব্যবহার করবেন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করার চেষ্টা করবেন। কারণ, ছাত্রলীগের পদে তো কোনো বেতন নেই।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কারও যদি সাংগঠনিক কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে তাঁরা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা কী করেছেন? তাঁদের ভোগান্তি কেন? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তিনি কঠোর হতে বলেছেন।

উল্লেখ্য, চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষে আছেন সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা। আরেকটি পক্ষে আছেন সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে ১১টি উপপক্ষ। এর মধ্যে বিজয় ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) মহিবুলের, বাকি নয়টি উপপক্ষ নাছিরের অনুসারীদের।

এর আগে সোমবার (১ আগষ্ট) বিকেল ৩টায় পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেন বিজয় গ্রুপের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- মো. ইলিয়াসকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি বর্ধিতকরণ, সব অছাত্র, শিবির, বিএনপি-জামায়াত ও বিবাহিত কর্মীদের ঘোষিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়া, ৫০ জন ত্যাগী, মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্রদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে আজকের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রদান এবং পদবিতে সিনিয়র-জুনিয়র ক্রমিক ঠিক করা।

রোববার (৩১ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়েছে ১১৮ জনকে। এছাড়া ১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও অন্যান্য পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরও ২৬৩ জনকে। কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে ২১ জনকে।

কমিটি ঘোষণার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। প্রধান ফটকে তালা দিয়ে দিনভর অবস্থান নেন তারা। এরপর বিকেলে ৫ দফা দাবি ঘোষণা করে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রেজাউল হক রুবেলকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।