চন্দনাইশ দোহাজারী শঙ্খচরে মূলার বাম্পার ফলনঃ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে চাষীদের মুখে খুশির ঝিলিক

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে শঙ্খচরে আগাম শীতকালীন সবজি মূলা ও শরৎকালীন বরবটির বাম্পার ফলন হয়েছে। বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ফের সবজি চাষাবাদ করতে মাঠে নেমে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষীদের মূখে ফুটে উঠেছে খুশির ঝিলিক।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খনদীর উভয় তীরের ১০ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকা সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার হিসেবে পরিচিত শঙ্খচরের উর্বর ভূমিতে চাষাবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করেন তারা। কিন্তু গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারনে সৃষ্ট বন্যায় চাষীদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বন্যার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে শরৎকালীন সবজি বরবটি ও আগাম শীতকালীন সবজি মূলা চাষাবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন শঙ্খ চরের চাষীরা। সবজি ক্ষেতে কাজ করার সময় কথা হয় দোহাজারী কিল্লাপাড়া এলাকার কৃষক আবু তাহের, শামছু মিয়া, জসিম উদ্দীনের সাথে। তারা জানান, জুলাই মাসের বন্যায় তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতের সবজি ক্ষেতেই পঁচে গেছে। বন্যা পরবর্তী সবজি চাষাবাদ করে লাভের মূখ দেখছেন তারা। কৃষক আবু তাহের জানান ৪০ শতক জমিতে মূলা চাষ করে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মূলা বিক্রি করেছেন তিনি। সার, বীজ, বালাইনাশক ও শ্রমিক বাবদ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

আরেক কৃষক জসিম উদ্দিন ৪০ শতক জমিতে মূলা চাষ করে বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। অপর কৃষক সামছুল আলম জানান, ৮০ শতক জমিতে শরৎকালীন সবজি বরবটি চাষ করেছেন তিনি। ৯০ হাজার টাকার মত খরচ হলেও বিক্রি করেছেন প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার বরবটি। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচা বাজার দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বরবটি ৩০/৩৫ টাকা, মূলা প্রতিভার (৮০ কেজি) ২৫শ টাকা, বেগুন ৩৫/৪০ টাকা, শশা ৩০/৩৫ টাকা, তিতা করলা ৪০/৪৫ টাকা, লাউ ২৫/৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০/২৫ টাকা, ঢেড়শ ৪০/৪৫ টাকা,, মূলাশাক ও কপিশাক প্রতিভার (৮০ আঁটি) ১২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী, ধোপাছড়ি, বৈলতলী, বরমা এবং সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া, কালিয়াইশ, পুরানগড়, ধর্মপুর, নলুয়া, চরতী ও আমিলাইশ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষক সবজি চাষের সাথে সরাসরি জড়িত। তারা জানান, শঙ্খচরের মাটি উর্বর হওয়ায় এখানে সব ধরনের সবজি চাষ হয়। এই চরে উৎপাদিত বীষমুক্ত বেগুন ও মূলার আলাদা কদর রয়েছে সারা দেশব্যাপী।

এছাড়া শিম, ঢেঁড়শ, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, তিত করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও পেঁপে সহ বিভিন্ন ধরনের শাক উৎপাদন হয় এখানে।

শঙ্খ চরে উৎপাদিত সবজি গুণেমানে ও স্বাদে ভালো হওয়ায় ভোজন রসিকদের কাছে এখানকার সবজির চাহিদা বেশি। কৃষকরা ভ্যান, রিক্সা, ট্রলি, নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত বোটে করে দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারে নিয়ে আসেন সবজি বিক্রির জন্য। শঙ্খ চরের সবজির উপর ভিত্তি করে দোহাজারী পৌরসভার পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়ার বোমাং হাট ও ছদাহার শিশুতলে নিয়মিত পাইকারি সবজি বাজার বসে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে সবজি সংগ্রহ করে ট্রাক যোগে আশপাশের এলাকা ও চট্টগ্রাম-ঢাকা সহ সারেদেশে সরবরাহ করেন। সবজি সংরক্ষণের জন্য চন্দনাইশ কিংবা সাতকানিয়ায় হিমাগার না থাকায় সবজি চাষীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন যাবত কৃষকরা দাবি জানিয়ে আসলেও হিমাগার নির্মাণ হচ্ছেনা। ফলে পাইকারদের বেঁধে দেয়া দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চন্দনাইশে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়। আগাম শীতকালীন শাক-সবজি রোপণ কেবল শুরু হয়েছে।

ফুলকপি, বাধাকপি ও টমেটোর চারা উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ সহায়তা দেয়ার কারনে আশানুরূপ ফলন হচ্ছে বলে জানান তিনি। দোহাজারী ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ৬ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনের বন্যার কারনে শঙ্খচরের ৮০০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজি মূলা ও শরৎকালীন বরবটির বাম্পার ফলন হয়েছে শঙ্খচরে। ভালো দাম পেয়ে কৃষকেরাও খুশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো ভালো ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।