চন্দনাইশে মাটি ও পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে উপজেলা প্রশাসন

রাতের আঁধারে ওই এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে পাচার হচ্ছিলো বিভিন্ন স্থানে।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চন্দনাইশ প্রতিনিধি: চন্দনাইশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের  ৪১ লট এলাহাবাদ। দুর্গম এলাকাকে পুঁজি করে কৃষি জমির মাটি কাটতে রাতে অন্ধকারচ্ছন্ন সময়কে বেছে নেয় মাটি খেকোরা। তাদের ধারণা, রাতের আঁধারে মাটি কেটে পাচার করলে প্রশাসনের খবর পাওয়া কিংবা ধরতে আসার কোন সুযোগ নেই। সেই পরিকল্পনায় গত ১০ নভেম্বর রাতের আঁধারে ওই এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে ট্রাকে করে পাচার হচ্ছিলো বিভিন্ন স্থানে। মধ্যরাতে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ফোর্স নিয়ে দুর্গম ওই এলাকায় রওনা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জিমরান মোহাম্মদ সায়েক। সেখানে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করেন তিনি। একইসঙ্গে পরবর্তীতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এছাড়া গত ১৯/১২/২২ তারিখ গোপন সূত্র মারফত অবৈধভাবে মাটি কাটার সংবাদ পেয়ে গভীর রাতে জামিজুরী এলাকায় নিজেই ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ঘটনাস্থলে মাটিকাটার প্রমাণ মেলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫০,০০০টাকা জরিমানা করা হয়।

এভাবে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় মাটিখেকোরা কৌশলে পাহাড় ও কৃষি জমি কাটার চেষ্টা করে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ভূমিদস্যুদের সহযোগিতায় গোপন থাকে এসব তথ্য। প্রশাসনের লাগানো সোর্সে খবর পেলেই অভিযানে নেমে অপরাধ অনুযায়ী জরিমানা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় উপজেলা প্রশাসন। গত এক বছরে পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত দুই মাসে চন্দনাইশে সর্বমোট ৭টি মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যেখানে মাটিখোকেদের কাছ থেকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোটা দাগে জরিমানা করায় অনেকে মাটি পাচারের কাজ থেকে বিরত রয়েছে। তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে তটস্থ থাকে তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরীন আক্তার  বলেন, “এ সময়টাতে মাটি কাটার ও পাহাড় কাটার প্রবনতা দেখা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়মিত মোবাইলকোর্ট করছি। অভিযোগ পেলেই তৎক্ষণাৎ অভিযান চালাচ্ছি। গত দুই মাসে আমরা ৭টি মামলায় মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান করছি। দূর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক সময় আমরা দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তদুপরি আমরা সকল সময় মাটি কাটা এবং পাহাড় কাটার বিষয়ে তৎপর আছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) জিমরান মোহাম্মদ সায়েক বলেন,  আমি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। মাটি কাটা এবং পাহাড় কাটায় আমরা অত্র উপজেলায় “জিরো টলারেন্স” পলিসি অবলম্বন করছি। দিন-রাত যখনই মাটি বা পাহাড় কাটার খবর আসছে আমরা তখনই অভিযান করছি।