চট্টগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীর কার্পাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তাকে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার (১ জানুয়ারি) স্কুলের ফটকে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই। আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রধান শিক্ষক (আলাউদ্দীন) যে কুকর্ম করে বেড়ায় তার প্রতিবাদ আমরা করছি। তিনি আমাদের বিব্রত করেন ফেসবুক মেসেঞ্জারেও। বিভিন্ন আয়া, পিয়ন দিয়ে ক্লাস রুম থেকে ডেকে উনার রুমে নিয়ে যায়। তারপর আমাদের সাথে বিভিন্ন কুকর্ম করে। এমনকি আমাদের টাচ করা, খারাপ… করে। আমরা সেটার প্রতিবাদ করলে হয় টিসি, না হয় ফেল। যেসব ছাত্রীরা ভয় পেয়ে লুকিয়ে থাকে তাদের ফেসবুকে বিরক্ত করেন। যারা উনার এসব কাজে সম্মতি দেয় না, তাদের শাস্তি দেয়। আমরা তার বিচার চাই, বিচার চাই।

স্কুলের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী জানায়, উনি অনেক বছর ধরে মেয়েদের সাথে যৌন হয়রানিমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা এতদিন মুখ খুলিনি। আমরা চাইনা আমাদের ছোট বোনরা উনার হাতে নির্যাতিত হোক। উনাকে বহিষ্কার করা হোক।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সহ-সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী বলেন, ঘটনাটা অনেক বছর ধরে চলছে। কিন্তু বাচ্চাদের ভয়ে তাদের পিতা-মাতারা কথা বলে না। কারণ উনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। ওদেরকে বলা হয়, তোমাদের রেজাল্ট আটকে দেওয়া হবে। তোমাদের রেজাল্ট খারাপ করা হবে কিংবা তোমাদের বহিষ্কার করা হবে। এ ধরনের বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনাটা আজকে নতুন না, অনেক বছর ধরে ঘটাচ্ছেন। আমাদের দাবি- এই মুহূর্তে উনাকে বহিষ্কার করতে হবে। উনাকে প্রত্যাহার করতে হবে। উনাকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। উনি যেহেতু অন্য কোথায় চাকরি না পান। প্রত্যেকটা গার্লস স্কুল এবং কলেজে প্রধান শিক্ষককে নারী হতে হবে। আমরা বাচ্চাদের সাথে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিচ্ছি কারণ একেকটা বাচ্চা কোমায় চলে যাচ্ছে। তারা মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। এটা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মত সলিউশন হতে হবে।

বিক্ষোভে উপস্থিত হয়ে চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু বলেন, আমি শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেছি। আগামীকাল উনাকে প্রত্যাহার করা হবে। আমি উনাকে ওএসডি করার জন্য অনুরোধ করেছি। উনার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন। ২০১৩ সালে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি। সেটা অন্য কারণে করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন চ্যাটিংয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থী যদি আমাকে ম্যাসেজে হাই-হ্যালো বা সালাম দেয়, আমি কি তার উত্তর দেব না?