গুমাইবিলের টপ সয়েল কাটায় এক্সকেভেটর নষ্ট করে দিল প্রশাসন

এক্সকেভেটর দিয়ে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা হচ্ছে গুমাইবিলে। প্রশাসন স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ায় একটি এক্সকেভেটর নষ্ট করে দিয়েছে।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলের টপসয়েল কাটায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত খননযন্ত্র (এক্সকেভেটর) ভেঙে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তবে এসময় কাউকে পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়া ৭নং ওয়ার্ডের গুমাইবিল অংশে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গনি ওসমানী। রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করেন৷

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল গনি ওসমানী জানান, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার একটি এক্সকেভেটর ভেঙ্গে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। জমির টপ সয়েল কাটার বিষয়ে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার  মো. ইসহাকের মালিকানাধীন জমি থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিমের সহযোগিতায় জমির এক ফুট পর্যন্ত মাটি কাটা হয়েছে। তারা সড়কের মুখে চৌকিদার রেখেই এসব মাটি কাটছে বলে জানা গেছে। শুধু এই স্থান থেকেই নয়, গত ১৫ দিন ধরে ১০/১২টি ট্রাকে করে গুমাইবিলের বিভিন্ন অংশ থেকে টপ সয়েল কেটে মাটি নিয়ে বিক্রি করেছে তারা।

তবে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. সেলিম টপ সয়েল কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনার সাথে আমি সম্পৃক্ত নয়।”

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুর উল্লাহ বলেন, ইউপি সদস্য সেলিমের নেতৃত্বে জমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। আমি তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছিলাম। গুমাইবিলের টপ সয়েল কাটা বন্ধে রাত জেগে পাহাড়া দিতে গিয়ে আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। হাসপাতালে থেকে কয়েকদিন আমার চিকিৎসা চালানোর সুযোগে তারা এ কাজ করেছে। গুমাই বিল রক্ষায় আমি সবসময় প্রশাসনকে সহযোগীতা করে আসছি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, মাটির টপ সয়েল কাটার ফলে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এই ক্ষতি পোষাতে ১০ বছরের অধিক সময় লাগবে। ফলে কৃষকরা মাটি বিক্রি করে নিজের ক্ষতি নিজেরাই করছেন।