ক্রাইম প্যাট্রল দেখে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের পেশা চুরি, ক্রাইম

গ্রেপ্তার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: এসেছেন সচ্ছল পরিবার থেকে। পড়াশোনা করছেন নামকরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের মেধা আর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। এই ছাত্রদের নিয়ে অভিভাবক, সমাজ ও শিক্ষকদের বড় আশা- উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে সংসারের চাকায় আরও গতি আনবে, দেশের সেবা করে অর্জন করবে সুনাম-খ্যাতি। কিন্তু তার আগেই তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন চুরির অপরাধে।

বুধবার তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখানে এ সব তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা হলেন- জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দীঘা গ্রামের মৃত জমশের আলীর ছেলে লিখন হাসান, সদর উপজেলার চরতারাপুরের ভাদুরডাংগীর হাতেম আলী মণ্ডলের ছেলে আবুল বাশার ও রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মিয়াপুর সুতাহাটি গ্রামের আবদুল্লাহিল কাফির ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহিল বাকি অনিক। তাদের মধ্যে লিখন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষে, অনিক পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষে এবং বাশার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং করছিলেন।

পুলিশ জানায়, এই ছাত্ররা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘ক্রাইম প্যাট্রল’ দেখে চুরির কৌশল রপ্ত করেছে। শিখেছে অভিনব কায়দায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার উপায়। সেই বিদ্যা কাজে লাগিয়ে নানা পেশার পরিচয়ে পাবনা শহরের বাসাবাড়িতে উপহারসামগ্রী নিয়ে যেত। বাড়ির লোকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে করত চুরি। এক পর্যায়ে গত ১০ জানুয়ারি শহরের জুবিলি ট্যাঙ্ক পাড়ার ডা. জহির উদ্দিনের ভাড়া বাসায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ পরিচয় দিয়ে যান দুই যুবক। তারা গৃহকর্ত্রীর কাছে একটি উপহারের বাক্স নিয়ে যান। এতে ওই চিকিৎসকের স্ত্রীর সন্দেহ হলে তিনি তাদের দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যান যুবকরা। তবে পুরো ঘটনা কৌশলে মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন ওই গৃহবধূ।

এর পরদিন শহরের বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আরিফ চৌধুরীর বাসায় যান কয়েকজন যুবক। তারা কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বাসায় ঢুকে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে নগদ ৭২ হাজার টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান। একই কায়দায় আরও একটি ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে ও একটি ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে গোপনে তদন্ত করে পুলিশ। তবে প্রথমে এর কূলকিনারা করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিনের চেষ্টা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছ তারা। থানায় নিয়ে তাদের পরিচয় পাওয়ার পর প্রথমে পুলিশেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না যে, তারা নিয়মিত চুরি করছিলেন।

পাবনার বেসরকারি শিমলা হাসপাতালের চিকিৎসক জহির বলেন, আমার বাসায় তারা চুরি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। তাই তখন পুলিশে অভিযোগ করিনি। তবে জনসচেতনতার জন্য ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করি। ব্যবসায়ী আরিফ চৌধুরী বলেন, আমার বাসায় চুরি হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ খোয়া যাওয়া মালপত্র উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অপেক্ষা করতে থাকি। অবশেষে চোররা ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে চুরির টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে।

সদর থানার ওসি কৃপাসিন্ধু বালা বলেন, অভিনব কায়দায় চুরির অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানাই। পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসির নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গোপনে এ রহস্য উদ্ঘাটন করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি ওই সময় প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, গ্রেপ্তার লিখন, অনিক ও বাশারের কাছ থেকে নগদ ৩১ হাজার টাকা, চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, ওরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও এক ধরনের বিকারগ্রস্ত। অতিলোভে তারা মেধার অপব্যবহার করছে। কিছুদিন কাউন্সেলিং করলে তারা এ পথ থেকে ফিরে আসতে পারে।