কর্ণফুলীতে জোয়ারে আসা যুবকের লাশ ৪ ঘন্টা পর ভাটার টানে ভেসে গেল

রাউজান (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলী নদীতে ভেসে থাকা যুবকের লাশ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাউজান প্রতিনিধি: কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের ভেসে আসা এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ ভাটার টানে পুনরায় ভেসে গেল।

সোমবার (৩ অক্টোবর ) চট্টগ্রামের রাউজানের উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের পাঁচখাইন এলাকায়  স্লুইচগেটে গেটে সকাল ৭টা হতে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা এই হতভাগা অজ্ঞাত যুবকের লাশটি আটকে থাকলেও থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।

বরঞ্চ ঘন্টা দুয়েক পর স্থানীয় কয়েকজন বাঁশ দিয়ে লাশটি ঠেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।  তাদের চেষ্টা বিফলে গেলেও সকাল ১১ টার দিকে ভাটার টানে লাশটি পুনরায় কর্ণফুলীতে ভেসে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লাশটি উপুড় হয়ে পানিতে ভেসে থাকার কারণে চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায় নি। এ কারণে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ওই যুবকের আনুমানিক বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তাঁর পরণে  ধূসর ও হলুদ রঙের টি–শার্ট আর জিন্স প্যান্ট ছিল। এ ছাড়া প্যান্টের পেছনের অংশে মানিব্যাগ দেখা যাচ্ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয়রা জানান, সোমবার  সকাল ৭টার দিকে কর্ণফুলী নদীর ৩ শ হতে সাড়ে তিনশ ফুট দূরত্বের সংযোগ খালের স্লুইসগেটে লাশটি আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিন থেকে চারজন লোক বাঁশ দিয়ে ঠেলে লাশটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় বিফল হন। এর মধ্যে থানা–পুলিশকেও বিষয়টি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভাটার টানে  লাশটি ভেসে কর্ণফুলী নদীতে চলে যায়।

স্থানীয়  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  ভুপেশ বড়ুয়া বলেন, আমি সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়েছি। সংবাদ পেয়ে পুলিশ খবর দিয়েছি। এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বললেও তিনি এলাকায় ছিলেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, আমি সকাল সকাল বিশেষ কাজে কোর্ট বিল্ডিং চলে আসি। ১০ টার দিকে চেয়ারম্যান জানালে আমি আমার ভাইকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তার পূর্বে লাশ ভেসে যায়। লাশ কোন দিয়ে গেছে সেই বিষয়ে তিনি কিছু অবগত নয় বলে জানান তিনি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হারুন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায়, স্লুইসগেটে এক যুবকের লাশ আটকে আছে। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ততক্ষণে লাশটি ভেসে চলে গেছে।

লাশটি এখন কোথায় আছে সেই সম্পর্কে কেউ সঠিক কোন তথ্য দিতে পারে নি।