এখন ঘুষ লেনদেন হয় ডলারে, দুদক কী করে : হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ঘুষের লেনদেন এখন টাকায় না, ডলারে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চে শুনানিতে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ প্রশ্ন রাখেন।

‘চাকরি ফিরে পেতে চান কুলাউড়ার জহিরুল : জালিয়াতি করে কারারক্ষী পদে চাকরি ১৮ বছর পর তদন্তে প্রমাণিত!’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কারারক্ষী পদে চাকরির জন্য ২০০৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছিলেন কুলাউড়ার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এশু।

নিয়োগৎ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়। কিন্তু পরে আর যোগদানপত্র না পাওয়ায় চাকরির আশা ছেড়ে শহরে ব্যবসা শুরু করেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে তার নাম পরিচয় ব্যবহার করে ওই পদে চাকরি করছেন আরেকজন। আর ইতোমধ্যে জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তেও সত্যতা পাওয়া গেছে। ’

সিলেটের কারা উপমহাপরিদর্শক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেল সুপার ইকবাল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেন। রিটে কারারক্ষী পদে আবেদনকারীর যোগদানপত্র গ্রহণে এবং আবেদনকারীর পদে চাকরি করা অন্য জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কেন ৫ বিবাদীকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, কারা মহাপরিদর্শক, কারা উপমহাপরিদর্শক, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার, কারারক্ষী হিসাবে চাকরি করা জহিরুল ইসলামকে বিবাদী করা হয় রিটে।

এ রিটের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, এ রকম একটি স্পর্শকাতর জায়গায় যদি এরকম অনিয়ম হয়, তাহলে কিন্তু এটা অশনী সংকেত। বেশ বড় ধরনের অভিযোগ।

শুনানির এক পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, গণমাধ্যমে দেখা যায় বস্তায় বস্তায় টাকা দিয়ে ঘুষ লেনদেন হয়।

তখন আদালত দুদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে দুদকের আইনজীবী আছেন, তার সামনেই বলি, এখন আর টাকায় নয়, ঘুষ লেনদেন হয় ডলারে। এ সব বিষয়ে দুদক তো দেখেনা, দুদক কী করে?

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবুল কালাম। পরে আইন কর্মকর্তা বাশার সাংবাদিকদের বলেন ‘দুই শ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের জাল-জালিয়াতি বা একজনের স্থলে আরেকজন শারীরিকভাবে কাজ করছেন বলে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আসে।

এ বিষয়টা যখন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে উনারা গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং এ বিষয়গুলো তদন্ত করেছেন। সেই তদন্তে ২০০ জনের মধ্যে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ জন পাওয়া গেছে, তারা প্রকৃত ব্যক্তির পরিবর্তে কর্মরত। আবার অনেকে রয়েছেন তারা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, যেটা তার প্রকৃত ঠিকানা নয়। আবার অনেকে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতি করেছেন। এগুলো ধরা পড়ার পরে ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যারা এ ধরনের জালিয়াতি করেছেন, এটা কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ। আজকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।

‘যারা এ ধরনের জালিয়াতি করেছে, এটা ফৌজদারি অপরাধ। প্রশাসন শিথিল শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। এটা যথেষ্ট নয়। কারণ যে ব্যক্তি অন্যের চাকরি করছেন, তিনি তো চাকরিই পান নাই। উনাকে কিভাবে চাকরিতে রাখেন। এই ব্যক্তি যেন চাকরিতে থাকতে না পারেন সে ব্যবস্থা নিয়ে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত। ‘