এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ৫৮৪ মিলিয়ন ডলার

এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ৫৮৪ মিলিয়ন ডলার।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগস্টের বিপরীতে সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরেই সাড়ে ২৩ হাজার কনটেইনার কম ওঠানামা করেছে। একই সময়ে অন্তত দুই লাখ টন কম কার্গো পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে এক মাসে ৫৮৪ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে বন্দরে ২ লাখ ৭১ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা কমে সেপ্টেম্বর মাসে ২ লাখ ৪৮ হাজারে নেমে আসে। অর্থাৎ এক মাসে ২৩ হাজার ৪৩২ কনটেইনার কম ওঠানামা করেছে। এমনকি কার্গো পণ্যের পরিমাণও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। আগস্ট মাসে ২৩ লাখ ১৩ হাজার টনের বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসে কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং নেমে আসে ২১ লাখ ৪২ হাজার টনে। অর্থাৎ ১ লাখ ৭১ হাজার টন কম কার্গো হ্যান্ডেলিং হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে যে পরিসংখ্যান ব্যবহার করি, সেটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত কয়েক মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ কমে এসেছে। করোনা স্থবিরতার মধ্যেও ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৫২ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পোশাক খাতেরই আয় ছিল ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যে কারণে বিশ্ব মন্দার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে এককভাবে বড় ধরনের ভূমিকা রেখে চলেছে তৈরি পোশাক খাত। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত ৮ মাসে বেশি সময় ধরে এ খাতকে নানা ধরনের জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ ছাড়া দেশের আমদানি রফতানি বাণিজ্যে ধ্বস নামার ক্ষেত্রেও অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে গার্মেন্টস সেক্টর।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের দাবি, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরেও বিশ্ব মন্দার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে ৩ হাজার ৭৪৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬১ ডলারে। সুতরাং, এক মাসের ব্যবধানে খাতটিতে রফতানি কমেছে ৫৮৪ মিলিয়ন ডলার। পোশাক খাতের রফতানি কমে যাওয়ার বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা যে পরিস্থিতি দেখছি, সে হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বরও এমন অবস্থাই থাকবে। রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে। এ ছাড়া আমরা এখনও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মৌসুমের ক্রয়াদেশ এখনও পাচ্ছি না।

ডলার সংকটের কারণে বিলাসবহুল পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে গত কয়েক মাসে আমদানির হার পর্যায়ক্রমে কমছে। আমদানি কিছুটা কম হওয়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার সাশ্রয় হচ্ছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, আমরা কম আমদানি করছি, এর মানে হচ্ছে আমরা কম অর্থ বিদেশে পাঠাচ্ছি, যা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া যদি অন্যপণ্য না আসে, তাহলে আমরা বিলাসীদ্রব্য কম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভস্ত হয়ে যাব। এটিও একটি ইতিবাচক বিষয়।

গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস পণ্যের পাশাপাশি হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ নানা ধরনের কেমিক্যাল রফতানি করা হয়। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলে যায়। কিন্তু সম্প্রতি বিএম ডিপোর ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেই কেমিক্যাল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় এ খাত থেকে রফতানি আয় একপ্রকার বন্ধ রয়েছে।