উখিয়ায় শত বছরের যোগাযোগ ভোগান্তির অবসান

‘কালা চাঁন সিকদার’ সড়ক ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

উখিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় শত বছর আগে (ব্রিটিশ আমলে) নির্মিত ‘কালা চাঁন সিকদার’ সড়ক অবশেষে পাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে সড়ককে বিভক্ত করা রেজু খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ।

স্থানীয়রা জানান, কাঁচা সড়ক পাকা করায় ও একটি ব্রিজ নির্মাণের ফলে শত বছরের যোগাযোগ ভোগান্তির অবসান হয়েছে উপজেলার রাজাপালং ও রত্নাপালং ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও ব্রিজ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করছেন। সেই সঙ্গে খুব সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহন করতে পারছেন। এতে যোগাযোগের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে জরুরি ভিত্তিতে ইএমসিআরপির আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি। ইএমসিআরপির আওতায় কক্সবাজারে আরও ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ২৮টি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উখিয়া বড়ুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রামুর বড়ুয়া সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ মন্দিরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শত বছর আগে ব্রিটিশ সরকার একটি কাচা সড়ক নির্মাণ করেন। যা ‘কালা চাঁন সিকদার’ সড়ক নামে পরিচিত।

সড়কটি নির্মাণের পর থেকে উন্নয়ন যেমন হয়নি, তেমনি একটি ব্রিজের অভাবে ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের ভোগান্তি ছিল। দরগাপালং ও টাইপালংয়ের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা রেজু খাল পারাপারে বাঁশের সাঁকোই ছিল ভরসা।

শিক্ষার্থীসহ বৃদ্ধরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করত। প্রায়ই ঘটত ছোটখাটো দুর্ঘটনা। যানবাহন পারাপার করতে না পারায় পায়ে হেটে যাতায়াত করতে হতো। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যসহ মালামাল পরিবহনেও কষ্টের সীমা ছিল না।

রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মো. আয়ুবুল ইসলাম বলেন, ‘এলজিইডি মানুষের যাতায়াতের জন্য যেসব সড়ক, ব্রিজ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে আশ্রয়ণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে তা এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উখিয়ার টাইপালং হয়ে দরগাহ বিল ও দরগাহ পালংয়ের মাঝামাঝি যে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে সেই ব্রিজের সুবিধা শুধু উখিয়া উপজেলার মানুষ নয়, বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষও ভোগ করছেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে পারছেন।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী উখিয়া-টেকনাফের সীমিত সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিশ্ব ব্যাংকের অনুদান সহায়তায় ‘ইএমসিআরপি’ প্রকল্প থেকে বিভিন্ন সেবা সুবিধা সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় অধিবাসী ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে ‘কালা চাঁন সিকদার’ সড়ক ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।’