ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়া-বেলারুশ যৌথ মহড়া নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রতিবেশী বেলারুশ তার ভূখণ্ডে মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিমান মহড়া শুরু করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর পাশাপাশি লড়াইয়ে অংশ নিতে মিনস্ককে টেনে আনা হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে বেলারুশীয় সেনা পাঠাবেন না। লুকাশেঙ্কো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

ইউক্রেনের উত্তরেই অবস্থিত বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে তাদের যৌথ বিমান মহড়া চলবে। এর মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘যৌথ কার্যক্রমের সামঞ্জস্য বাড়ানো।’

মহড়ায় বেলারুশের সব বিমান ঘাঁটি অংশ নেবে বলে জানিয়েছে মিনস্ক কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, মহড়ার মধ্যে থাকবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বোঝা, সীমান্তে যৌথ টহল, কৌশলগত বিমান হামলা বাস্তবায়ন, পণ্য সরবরাহ এবং আহতদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ। সরকারি কর্মকর্তারা এই মহড়াকে নিছক প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

বেলারুশ সরকারের নিরাপত্তা পরিষদের ফার্স্ট ডেপুটি স্টেট সেক্রেটারি পাভেল মুরাভেইকো বলেন, ‘ইউক্রেনের সঙ্গে সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কিয়েভের তরফ থেকে আসা যেকোনো উসকানিমূলক কার্যক্রমের জন্য সর্বদা প্রস্তুত মিনস্ক।’

রাশিয়া সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র বেলারুশের প্রধান রাজনৈতিক মিত্র ও ঋণদাতা। মস্কোকে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য এর মধ্যেই তার ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে মিনস্ক। শুরুর দিকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেলারুশের দিক থেকে চালানোও হয়েছে।
এর আগে গত অক্টোবরে মিনস্ক জানায়, তারা মস্কোর সঙ্গে মিলে একটি যৌথ আঞ্চলিক বাহিনী প্রতিষ্ঠা করছে। তার জন্য কয়েক হাজার রুশ সেনা বেলারুশে আসছে।

দনিপ্রোতে নিহত বেড়ে ৩৬ 

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোর একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ৪০ ঘণ্টা পর সোমবারও উদ্ধার অভিযান চলছিল। স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশুও আছে। আরো লাশ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
বেসামরিক স্থাপনায় এই হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে মস্কো। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণেই আবাসিক ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ক্রেমলিন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, গত কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়ার গত শনিবারের হামলা ছিল ভয়াবহতম। ইউক্রেনকে পশ্চিমারা ট্যাংক সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলা চালানো হয়।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য লারিসা বরিসেনকো সোমবার বলেন, ‘আমরা ঘুম বা কোনো ধরনের বিশ্রাম ছাড়া টানা ১৯ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করছি। এখনো কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে পারিনি।’
নিহতের সংখ্যা তুলে ধরে দনিপ্রত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেন্টিন রেজিনিচেনকো বলেন, ‘আবাসিক ভবনটিতে থাকা আরো ৩৫ বাসিন্দার ভাগ্যে কী ঘটেছে এখনো জানা যায়নি।’

যুক্তরাজ্যের ট্যাংক নিয়ে রুশ হুঁশিয়ারি

এদিকে ইউক্রেনের কাছে প্রতিশ্রুত ব্রিটিশ ট্যাংকগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের ট্যাংকগুলো ধ্বংস হচ্ছে এবং আরো ধ্বংস হবে।’
পেসকভ আরো বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো কিছু দেশের ট্যাংক পাঠানোর পরিকল্পনা যুদ্ধের রূপ বদলে দেবে না। এটি কেবল যুদ্ধকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক গত সপ্তাহে কিয়েভকে তার দেশের চ্যালেঞ্জার দুটি ট্যাংক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই মাসের শুরুর দিকে ফ্রান্সও ইউক্রেনে সে দেশের ট্যাংক এএমএস-১০-আরসি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আর প্রতিবেশী পোল্যান্ড ইঙ্গিত দিয়েছে, তারাও ইউক্রেনকে লেপার্ড ট্যাংক পাঠাতে ইচ্ছুক।