অস্ট্রেলিয়ায় সৈকতে আটকে পড়া প্রায় ২০০ তিমির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার পশ্চিম রুক্ষ উপকূলে সমুদ্রতীরে আটকে পড়া প্রায় ২০০ পাইলট প্রজাতির তিমির মৃত্যু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধারকর্মীরা আজ বৃহস্পতিবার এ কথা জানান। খবর এএফপির।

এ ঘটনার দেখভালের দায়িত্বে থাকা ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা সৈকত থেকে প্রায় ৩৫টি জীবিত প্রাণী উদ্ধার করতে পেরেছি। আজ সকালে আমাদের প্রথম কাজ হবে উদ্ধার অভিযান চালানো এবং উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া।’

সমুদ্রতীরে আটকে থাকতে দেখার পর স্থানীয় লোকজন তিমিগুলো জীবিত রাখতে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেন এবং প্রচুর পানি ঢালতে থাকেন।

দুই বছর আগে ম্যাককুয়েরি হারবারের কাছেই দেশটির সর্বকালের সবচেয়ে বেশি তিমি আটকে পড়ে। ওই সময় প্রায় ৫০০ তিমি আটকে পড়েছিল। তাসমানিয়ার হিমশীতল পানিতে তাদের অবমুক্ত করতে কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবকের কয়েক দিনের পরিশ্রম সত্ত্বেও প্রায় ৩০০ মারা তিমি যায়।

ক্লার্ক জানান, সর্বশেষ আটকে পড়ার পরিস্থিতি দুই বছর আগের তিমিগুলোর অবস্থার চেয়েও কঠিন। ওই সময় প্রাণীগুলো আরও বেশি পানির মধ্যে ছিল।

তিমির এভাবে গণহারে সৈকতে আটকে পড়ার কারণ এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৈকতের খুব কাছে চলে আসার পর দলছুট সঙ্গীদের অনুসরণ করতে গিয়ে এমনটা ঘটতে পারে।

পাইলট প্রজাতির তিমি ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এগুলো দল বেঁধে থাকতে পছন্দ করে এবং পথ হারিয়ে বিপদে পড়া সঙ্গীদের অনুসরণ করতে পারে।
কখনো কখনো বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা আহত তিমিগুলো সাঁতরে তীরে উঠে আসে এবং অন্য সঙ্গীরা তাঁদের অনুসরণ করলে এমনটা ঘটে থাকে। আটকে পড়া তিমির বিপৎসংকেতে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে দলের অন্য সঙ্গীরা।

তবে অন্যরা মনে করেন, মৃদু ঢালু সৈকত তিমিগুলোর পানির গভীরতা বোঝার বোধশক্তিকে বিভ্রান্ত করে। তিমিগুলোর মনে করায় যে তারা উন্মুক্ত জলরাশিতেই আছে। এ ধরনের সৈকত তাসমানিয়ায় পাওয়া যায়।

দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরে এ ধরনের তিন শতাধিক প্রাণী সৈকতে উঠে আসে। ২০ থেকে ৫০টি দলবদ্ধ তিমির সৈকতে উঠে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে বড় দল হলে সেটা কয়েক শ তিমিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের একটি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৭০০টি তিমি উঠে আসে। এর মধ্যে ২৫০টির মৃত্যু হয়।