৯৯৯ নম্বরে সাহায্য চাওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ!

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাওয়ায় উল্টো এক নারীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ঐ নারী অভিযোগ করেন, ৯৯৯ নম্বরে কল করে সাহায্য চাওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নওয়াবুর তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন এবং লোকজন দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে রংপুর পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজিকে লিখিত অভিযোগ করেছেন শাম্মি আকতার নামের ভুক্তভোগী এক নারী। এর আগে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারকে তিনি লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেন।

নির্যাতনের শিকার নারী জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফাঁড়ির ইনচার্জ নওয়াবুর আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, তুই পুলিশের বিরুদ্ধে ৯৯৯ নম্বরে কল করে অভিযোগ দেস। পরে ফাঁড়িতে নিয়ে নারী গ্রাম পুলিশ সদস্য দিয়ে আমাকে মারধর করান। আমি বারবার অনুরোধ করলেও আমাকে মারধর থেকে রেহাই দেয়া হয়নি। আমি ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়ার কথা বললেও আমাকে ছাড়া হয়নি। পরে ফাঁড়ি থেকে আমাকে সাদুল্যাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নওয়াবুর আমাদের প্রতিপক্ষ শংকর চন্দ্রকে দিয়ে আমি ও বাবা-মা, বোন ও চাচাকে আসামি বানিয়ে মামলা করান। এসময় ওসি সাহেবকে অনুরোধ করায় পুলিশি প্রহরায় আমি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাই।

এদিকে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ধাপেরহাটের একটি বাড়িতে ঢুকে ফাঁড়ির পুলিশ ভিডিও করছিলে। ভিডিও করতে বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা পলাশ বাঁধা দেন। পরে খবর পেয়ে ইনচার্জ নওয়াবুর সেখানে গিয়ে পলাশ ও তার বাবাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ফাঁড়িতে গেলে নওয়াবুর তাদের দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে তিনি ৩-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়েন।

এসব ব্যাপারে পুলিশ পরির্দশক নওয়াবুর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মামলার আসামি হিসেবে শাম্মি আকতারকে গ্রেফতার করা হয়। গালিগালাজ ও মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া পুলিশের কাজে বাধা ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ী পলাশের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

পরিদর্শক নওয়াবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কারণে দায়িত্ব থেকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নওয়াবুরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যুবলীগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতাকে আটক ও এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত চলমান বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।