৫৫ লাখ মানুষের চাকরি কেড়ে নিবে রোবট

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের করণীয় ও দিক-নির্দেশনা খুঁজতে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব’ ও বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বৈঠকটির সহযোগিতায় ছিল এটুআই বাংলাদেশ।

বৈঠকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হলে সম্ভাব্য কি কি পরিবর্তন আসতে পারে এবং চাকুরি ক্ষেত্রে কতটুকু পরিবর্তন আসবে তা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ঢাকা’র উপদেষ্টা কে এম হাছান রিপন।

তার উপস্থাপনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলে রোবট কেড়ে নিবে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ চাকুরি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মেশিন বা রোবট গতানুগতিক কাজগুলো সহজেই নিঁখুতভাবে করবে।

তাই মানুষকে নিজস্ব ক্ষেত্রে ইমোশনাল কমিউনিকেশন ও জটিল কাজগুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষা পদ্ধতিতে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী পড়াশোনা নিশ্চিতসহ কারিগরি শিক্ষা পদ্ধতিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার প্রস্তাব করেন হাছান রিপন।

ডিইসি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠা সভাপতি সোমেন কানুনগো‘র সঞ্চালনায় বৈঠকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারি, সরকারের এটুআই এর ফিউচার অব ওয়ার্কের প্রধান আসাদ উদ্ জামান, র‌্যাংকস্ এফসি প্রোপার্টিজের সিইও তানবির শাহরিয়ার রিমন, বিএসআরএম গ্রুপের নেটওয়ার্ক ও ডাটাবেইজ  ইনফ্রা’র ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম মাহিন, পেসিফিক জিনসের হেড অব প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট লুথমিলা ফরিদ, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের পরিচালক সাহেলা আবেদিন ও সুলতানা নুরজাহার রুজি প্রমুখ।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, কর্পোরেট প্রফেশনাল, উদ্যোক্তা, চাকরিজীবী ও শতাধিক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন বিভিন্ন চাকুরিজীবিসহ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

এসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাপদ্ধতিতে প্র্যাকটিক্যাল ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি এমন অবস্থায় তারা কিভাবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিবেন বলে আলোচকদের কাছে প্রশ্ন ছোড়েন।

তার প্রশ্নের জবাবে অনুষ্ঠানের আলোচক তানবির শাহরিয়ার রিমন বলেন, গতানুগতিক কাজ দখল করে নিবে মেশিন। কিন্তু এসব মেশিন তৈরি করছে মানুষেরা। হয়ত ভবিষ্যতে মেশিনও রোবটরা তৈরি করবে। এক্ষেত্রে লিডিংটা সবসময় মানুষ দিবে। তাই শিক্ষাকে চাহিদা অনুযায়ী হতে হবে।

তিনি বলেন, কোনভাবে দক্ষতা অর্জন হয় না এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যাবে না। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেয়ার মতো বিষয়গুলোকে পাঠের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারি বলেন, আমাদেরকে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যে পরিবর্তন হবে তা মোকাবেলা করা যাবে না। তাই আমাদের ক্ষেত্র অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে গড়ে তুলতে হবে। যেন ভবিষ্যত পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত হতে পারেন।

এদিকে বৈঠক শেষে ‘ডি ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব’র ৭ম বর্ষপূতির কেক কাটেন অতিথিরা।

উল্লেখ্য, বৈঠকটির পার্টনার হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ইয়ং বাংলা, অ্যাপ্রোচ পি আর গ্লোবাল লিমিটেড, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, লিড বাংলাদেশ, নেসলে বাংলাদেশ ও ফাইভ এসপিআর।