“৪ মাস ধরে লাশের অপেক্ষায় পরিবার”

সৌদিতে এক বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

আবদুর রহমান
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সৌদি আরব প্রতিনিধি: সৌদি আরবের আল হারমোলিয়াহ এলাকায় আবদুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর চার মাস পেরিয়ে গেলেও লাশ দেশে যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ও জেদ্দা কনসুলেট তথা সৌদি সরকারের কাছে আকুল আবেদনের ৪ মাস ছেলের   লাশের অপেক্ষায় পরিবার।

এদিকে লাশের জন্য বিভিন্ন মহলে ধারণা  দিয়েও কোনো উপায় পাচ্ছে না পরিবার। আবদুর রহমান লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডস্থ উত্তর চর লরেঞ্চ গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের  রিয়াদ শহরের নিকটতম একটি ছাগলের খামারে কাজ করতেন আবদুর রহমান। চলতি বছরের ১লা মে পুলিশ রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে তার কর্মস্থল থেকে। ৫ দিন পর সে মারা গেছে বলে খবর পায় তার পরিবার। পরে সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, আবদুর রহমানকে খুন করে তার লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গাড়ি চাপায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে সেখানকার মালিকপক্ষ।

এ ঘটনায় পুলিশ এক সৌদি নাগরিক ও একজন সুদানি নাগরিককে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে বলেও জানান তারা। পরে গত ১০ মে ছেলেকে হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে সৌদি সরকারের নিকট লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করেছেন আবদুর রহমানের বাবা মো. হানিফ। ১৪ মে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাকে একটি প্রাপ্তি স্বীকার দিয়েছে।

নিহত আবদুর রহমানের বাবা মো. হানিফ ও ভাই আবুল কাশেম জানান, নিহত রহমানের ভগ্নিপতি সৌদি প্রবাসী মো. ইউসুফ মোবাইল ফোনে জানায়, শালার লাশ দেশে পাঠানো এবং কীভাবে সে মারা গেছে তা জানার জন্য কয়েকবার সৌদি দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন তিনি।

কিন্তু দূতাবাস থেকে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তেমন কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে তিনি সৌদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে জানিয়েছে রহমানের মৃত্যুর প্রতিবেদন বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। লাশ বর্তমানে সৌদি একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

এখন যা জানাবে সব বাংলাদেশ দূতাবাস জানাবে।  এদিকে নিহত রহমানের প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী জানান, আবদুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা আহাজারি করছেন। তারা যেকোনো ভাবে ছেলের লাশ দেশে নিতে চান এবং ছেলে হত্যার বিচার চান। সেজন্য তারা সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সরকারের সহযোগিতা চান।

নিহতের মা লাকী বেগম টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, সংসারে অভাব অনটনের কারণে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ির পাশের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ছেলেকে সৌদি পাঠান। কিন্তু সৌদি গিয়ে জানতে পারেন তার চাকরি মরুভূমিতে উট চরানো। এ কাজ করা তারপক্ষে মোটেই সম্ভব ছিল না। তবুও বহু কষ্টে সে ২ বছর কাটিয়েছেন। করোনার সময়ও তার কোনো ছুটি ছিল না। এর মাঝে কারণে অকারণে মালিকপক্ষ তাকে মারধর করতো। পরে  নির্যাতনে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। যুক্ত হন নতুন আরেকটি কাজে। কিন্তু এখানেও সে জানতে পারেন তার কাজ মরুভূমিতে ছাগলের খামারের শ্রমিক। নতুন কর্মক্ষেত্রে সুদানি সহকর্মীদের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঈদের আগের দিন বিকাল বেলায় ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হচ্ছিল। কথা বলার এক ফাঁকে হঠাৎ করে আবদুর রহমান চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন ‘মা আজরাইল আসছে।’ এ কথা বলেই ফোন কেটে রেখে দেয়। এরপর এদিক থেকে বারবার ফোন দিয়েও আর তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাড়ি থেকে পর পর দু’দিন তার ফোনে যোগাযোগ করে যখন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, তখন ঘটনাটি তিনি তার মেয়ের জামাই সৌদি প্রবাসী মো. ইউসুফকে জানান। পরে ইউসুফ আল হারমোলিয়াহ এলাকায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আবদুর রহমানের সঙ্গে তার সুদানি এক সহকর্মীর ঝগড়া হয়েছিল। ঝগড়ার একদিন পর রহমানের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। ইউসুফকে সেখানকার স্থানীয়রা জানায়, আবদুর রহমানকে খুন করা হয়েছে। পরে ইউসুফ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার লাশ দেখে আসেন।

জানা যায়, এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, নিহত আবদুর  রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা ও লাশ দেশে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আবেদন দেয়া হয়েছে। তিনি সে আবেদন জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন।