হাইকোর্টে ডিসির প্রতিবেদন কক্সবাজার সৈকতে ৪১৭ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাকি ২৩৩টি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবনী ও কলাতলী সমুদ্র সৈকত এলাকায় ৪১৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতের নির্দেশনা থাকায় এখনো ২৩৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আইনজীবীর মাধ্যমে হলফনামা আকারে এমন তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করার কারণ ব্যাখ্যা দিতে এর আগে এদিন সকালে আদালতে উপস্থিত হন তিনি।

তলবে হাজিরের পর শুনানি শেষে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৯ নভেম্বরের আদালতের আদেশ প্রতিপালনের প্রতিবেদন দিতে বলেন হাইকোর্ট।

এদিন সমুদ্র সৈকত এলাকার অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মানার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চে হাজির হন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর জেলা প্রশাসকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

ডিসি মো. মামুনুর রশীদ তার সই করা একটি প্রতিবেদন আদালতে হলফনামা আকারে আইনজীবীর মাধ্যমে জমা দেন। হলফনামায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের জেলা প্রশাসককে পাঠানো একটি স্মারকও যুক্ত করা হয়।

সেই স্মারকে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টকারী সব অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণে ২০১১ সালে নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশনার আলোকে ২০১১ সালের ২৪ জানুয়ারি এবং একই বছরের ১১ মার্চ এবং ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আদেশ অনুসরণে উচ্ছেদ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবনী ও কলাতলী সমুদ্র সৈকত এলাকায় ৪১৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু দুটি সমিতি আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতের আদেশ দেখান। ওই আদেশে দেখা যায়, সুগন্ধা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে জাকির হোসেন ও অপর একজন সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করেন।

আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেন এবং ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ না করার আদেশ দেন। ফলে ১০ অক্টোবর দুটি সমিতির ২৩৩টি (১৪৩+৯০)দোকান উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। তবে সরেজমিন পরিদর্শেনে দেখা গেছে, দোকানদাররা তাদের মালামাল বেশিরভাগই সরিয়ে নিয়েছেন এবং অবশিষ্ট মালামাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট আদালত অবমানার অভিযোগের এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে জেলা প্রশাসক মামুনর রশিদকে তলব করেন।

যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন তারা হলেন- কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ, উপ-পরিচালক, টাউন প্লানার তানভির হাসান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনর রশিদ, পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবর রহমান।

ওইদিন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কক্সবাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশনা পর সেটা উচ্ছেদও করা হয়েছিল। কিন্তু ইদানিং প্রায় ১০০টির মতো দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার মাস আগে আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। এরপর দীর্ঘ শুনানির পর বার বার সময় নেওয়ার পরও জেলা প্রশাসক ওই সব স্থাপনা উচ্ছেদ করেননি। যে কারণে আজকে (২৫ আগস্ট) জেলা প্রশাসকসহ সবার ওপর আদালত অবমনানর অভিযোগে একটা রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে ১৯ অক্টোবর সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।