সৌদিতে মৃত্যু পথযাত্রী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফেনীর ইউছুফ বাড়ি ফিরতে চান

সৌদিতে মৃত্যু পথযাত্রী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফেনীর ইউছুফ বাড়ি ফিরতে চান।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সৌদি আরব প্রতিনিধি:  মুহাম্মদ আবুল আল হাসান প্রকাশ ইউছুফ ভাগ্য বদলাতে ২০০২ তথা আজ থেকে ২০ বছর আগে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্য দেশ সৌদি আরবে। কাজ পান সৌদির একটি কোম্পানিতে। বিগত বছরে ভাল-মন্দ বেশ ভালোই কাটছিল আবুল আল হাসান ইউছুফের জীবন।

হঠাৎ তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা চিন্তায় পড়ে যান। অনেক দিন পর খোঁজ মেলে আবুল আল হাসান ইউছুফের।ব্রেইন স্ট্রোকের মত হয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সামান্য ভাল হয়ে মক্কা প্রবাসী অসুস্থ আবুল আল হাসান প্রকাশ ইউছুফ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেন। আবারো অসুস্থ হয়ে পড়েন।

র্দীঘ ৮ মাস যাবত সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মিসফালাহর ইব্রাহিম খলিল রোড়ে দাহালার একটি বাসায় বিছানায় পড়ে আছেন। শরীরের নানা রোগে আক্রান্ত। কথা বলতে পারে না। যোগাযোগ করতে পারেনা বাড়িতে। ইশারায় শুধু বাড়ি ফিরতে চান মৃত্যু পথযাত্রী এ রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

তার দেখবালের দায়িত্বে বাংলাদেশিরাই। বিশেষ করে নিয়মিত খোঁজ খবর ও দেখা শোনা করেছেন প্রতিবেশি প্রবাসী নাজিম উদ্দীন। নিজের বাবার মত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যার যত সম্ভব কোম্পানিতে চাকুরীরত সহকর্মীরা করছেন।

প্রবাসী নাজিম উদ্দীন জানান, আমি আল্লাহর দিকে দেখে প্রায় ৮ মাস যাবত অসুস্থ আবুল আল হাসান ইউছুফকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমার রুমে ওনাকে রেখেছি। চেষ্টা করতেছি দেশের পালটানোর জন্য। তাই সকল প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

নাজিম উদ্দীন আরও জানান, ইতোমধ্যে, রিয়াদ-বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা-বাংলাদেশ কনসুলেটে গুরতর অসুস্থ মক্কা প্রবাসী আবুল আল হাসান ইউছুফের পাসপোর্ট-সহ কাগজ পত্র জমা দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রেমিট্যান্স যোদ্ধার কথা চিন্তা করে দেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিবে।

মক্কা প্রবাসী অসুস্থ আবুল আল হাসান ইউছুফের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের নগরকান্দা গ্রামে।

বাড়ি রয়েছেন স্ত্রী ও চার মেয়ে। দু’মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। আর দু’মেয়ে বাড়িতে আছেন তারা লেখাপড়া করে।

এদিকে, কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন? নাকি সেখানেই তার মৃত্যু হবে, এ নিয়ে তার পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়েছে। আবুল আল হাসান ইউছুফকে দেশে আনতে কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তার স্ত্রী ও সন্তানরা। বাবার জন্য কাঁদতে কাঁদতে পাগল প্রায়। ইউছুফের চার মেয়ে সব সময় খোঁজে ফেরে বাবাকে। বাবার মুখটি দেখতে তারা উদগ্রীব।

অসহায় এই পরিবারটি সংসারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। কারণ আবুল আল হাসান ইউছুফকে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার পরিবারের নেই।