সেলিমের শোকসভায় একি শোক! ছাত্রলীগের স্লোগান-চিৎকারে বিব্রত প্রবীণ নেতারা (ভিডিও)

তারেক সোলেমান সেলিমের নাগরিক শোকসভা

ছাত্রলীগের স্লোগান-চিৎকারে বিব্রত প্রবীণ নেতারা
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

জোবাইর রিফাত: ২৩ অক্টোবর,২০২১ বিকাল ৩টা। কাজির দেউরীস্থ আইসিসি কনভেনশন হলে শুরু হয়েছে চসিকের আলকরণ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের নাগরিক শোকসভা । সভায় প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জেষ্ঠ্য রাজনীতিবিদরা।

বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকেই সভাস্থলে শুরু হয় নেতাকর্মীদের জমায়েত।দুপুর শেষে তখন বিকাল ৪ টা। ততক্ষণে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সভায় পরিণত হয় সেলিমের শোকসভা।দলে দলে স্লোগান আর ভাইদের নাম মুখে সভাস্থলে আসছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথিকে নিয়ে অন্যান্য অতিথি সভাস্থলে ঢুকার পরে একটি বিশাল মিছিল প্রবেশ করে আইসিসি কনভেনশন হলে। হঠাৎ জোর স্লোগান আর চিৎকারে, মঞ্চে সভা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নগর আওয়ামী লীগের সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী মাইকে বলতে থাকেন, ‘এটি শোকসভা, এটি কোনো রাজনৈতিক সভা নয়। এখানে কেউ স্লোগান দিবেননা’।

এরপর থেকে শুরু হয় আরো ব্যাপক শোরগোল। শোকসভায় ছিলোনা কোনো শোক। একটু পরপরই মাইক নিয়ে উচ্চারিত হচ্ছে হুশিয়ারি বাক্য, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সভা নয়, কোনো বর্ধিত সভা নয়, কোনো কর্মীসভাও নয়। দয়া করে স্লোগান দিবেননা’।

এদিকে শোকসভার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে ততক্ষণে।নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন মঞ্চে থেকে উঠে এসে বারেবারে চেষ্ঠা করছেন নেতাকর্মীদের নিবৃত করতে। ছাত্রলীগের একটি মিছিল চুপ হয় তো, সভাস্থলে উপস্থিত হয় আরেকটি মিছিল। ধারাবাহিকভাবে যারাই বক্তব্য রাখছেন তাদের অধিকাংশই বক্তব্যের শুরুতে, মাঝখানে, শেষে একটি কমন কথা বলেছেন, ‘দয়া করে স্লোগান দিবেননা কেউ’। আপনারা বসে পড়ুন। এটি রাজনৈতিক সভা নয়’।

বক্তব্য দিতে এসে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘স্লোগানের বিষয়ে আমি একটি কথা বলি, আজকের অনুষ্ঠানটাকে তোমরা ম্লান করে দিয়েছো’।

এসময় মোছলেম তাচ্ছিল্যের সুরে আরো বলেন, ‘পড়ে এসেছো গরুর রচনা। আর পরীক্ষায় এসেছে কুমিরের রচনা।’

এদিন নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে এসে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ শুরুতেই বলেন, আপনারা যারা সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বসে পড়ুন।সাংবাদিক ছাড়া বাকিরা সরে যান’।

এসময় বক্তব্যের এক পর্যায়ে মঞ্চের সামনে বসে থাকা নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকলে, হানিফ সকলকে হাত নাড়িয়ে থামতে বলেন।

এমন পরিস্থিতির বিষয়ে শোকসভার পরিচালনায় থাকা নগর আওয়ামী লীগের সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, ‘নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিলে কখন ’শেইম’ বলতে হয় তাও জানেনা মঞ্চের সামনে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আজকের শোকসভাটিতে কোনোভাবেই নিভৃত করতে পারছিলাম না তাদের (ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের)।

এদিন ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সকল নেতাকর্মীকে বিব্রত হতে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল হক রাসেল অবশ্য বলছেন, ‘নগরে এখনো কোনো কমিটি হয়নি। ছাত্রলীগ,যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ একাধিক কমিটি হবার অপেক্ষায়। কাজেই মানতে কষ্ট হলেও এটিই বাস্তবতা যে, নেতাকর্মীদের চিৎকার স্লোগানের মূল কারণ এটিই’।

রাজনৈতিক শোকসভাগুলো অনেক সময় স্বাভাবিক শোকসভার মত হয়না, বলেন রাসেল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু,বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল প্রমুখ।