সেই ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন সহকারী, নির্দেশনা দিচ্ছিলেন অপারেটর

ক্রেনটির ছিলনা ফিটনেস। এর ধারণক্ষমতা ছিল ৫০ টন। আর গার্ডারের ওজন ছিল ৭০ টন।

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারের ওপর নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী রাকিব হোসেন এবং বাইরে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন ক্রেনের মূল অপারেটর আল আমিন।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগষ্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, ক্রেনের মূল অপারেটর ছিলেন আল আমিন। তার হালকা গাড়ি চালানোর অনুমোদন থাকলেও ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই। ২০১৬ সালে ক্রেন চালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ২-৩টি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করেন। গত মে মাসে তিনি বিআরটি প্রকল্পে ক্রেন অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেপ্তার রাকিবও ৩ মাস আগে বিআরটি প্রকল্পে ক্রেন-হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার ক্রেন চালনায় কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ নেই। দুর্ঘটনার দিন আল আমিন ও রাকিব দুপুরে ক্রেন চালানো শুরু করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়কের একটি গার্ডার তোলার সময় ক্রেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডারটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে ঘটনাস্থলে পাঁচজন নিহত হন।

র‌্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, দুর্ঘটনার সময় হেলপার রাকিব ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন। আর ক্রেন অপারেটর আল আমিন বাইরে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তারা দুজনই সেখান থেকে পালিয়ে যান।

বিআরটি প্রকল্পের ঠিকাদার চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন (সিজিজিসি) ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে ইফসকন নামের একটি দেশীয় কোম্পানি থেকে। ইফসকনের কাছে বড় ক্রেন না থাকায় সেদিন বিল্ড ট্রেড কোম্পানির কাছ থেকে ওই ক্রেনটি ভাড়া নেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ইফসকনের স্বত্বাধিকারী গ্রেপ্তার ইফতেখার ও হেড অব অপারেশন মিঠু অপারেটরদের দক্ষতা ও ক্রেনের ফিটনেস যাচাই না করেই সেদিন জনবহুল সড়কে গার্ডার স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এ সময় অতিরিক্ত একটি সহায়ক ক্রেন থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না।

ক্রেন অপারেটর আল আমিন হোসেন হৃদয় ও সহকারী রাকিব হোসেন ছাড়াও ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, নিরপাত্তার দায়িত্বে থাকা ফোর ব্রাদার্স গার্ড সার্ভিসের ট্রাফিক ম্যান রুবেল, আফরোজ মিয়া, সেফটি ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী শাহ, ইফসকন বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার হোসেন, হেড অব অপারেশন আজহারুল ইসলাম মিঠু, ক্রেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিল্ড ট্রেড কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন তুষার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন মৃধা ও মঞ্জুরুল ইসলাম।

গার্ডার দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন রুবেল (৬০), ফাহিমা (৪০), ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। এ ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া হৃদয় ও রিয়া মনিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত।

এ ঘটনায় সিজিজিসির বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝর্না আক্তারের ভাই আফরান মন্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এর মধ্যে ক্রেনচালকও রয়েছেন।