সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ (সাদা প্যানেল) থেকে নির্বাচিত সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) নবনির্বাচিত সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মমতাজ উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নির্বাচিত অন্যান্য আইনজীবীরা। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল, নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার (২৭ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২২-২৩ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল নির্বাচিত হয়েছে বলে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় নতুন উপ-কমিটির আহ্বায়ক মো. অজি উল্লাহ এ ফলাফল ঘোষণা করেন। মোমতাজ ও দুলাল উভয়ই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা) প্যানেল থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছেন।

ভোট পুনর্গণনা শেষে অজি উল্লাহ জানান, আবদুর নুর দুলাল ২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়েছেন, অপর দিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল পেয়েছেন ২ হাজার ৮৪৬ ভোট।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জয়ী সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৪ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী একই পদে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল পেয়েছেন ২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই সমিতির সম্পাদকের কক্ষের চেয়ারে বসেন দুলাল। এ সময় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কক্ষের সম্পাদকের নামফলক পাল্টিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজলের বদলে আবদুন নুর দুলালের নাম বসানো হয়।

প্রায় দেড় মাস আগে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদক ছাড়াও দুই সহ-সভাপতিসহ সাতটি পদে জয় লাভ করেছে আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবী সাদা প্যানেল। অপরদিকে, কোষাধ্যক্ষ ও দুই যুগ্ম সম্পাদকসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের নীল প্যানেল থেকে সাতজন জয় পেয়েছেন।

ফলাফলে অন্যান্য পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্যানেল থেকে জয় পাওয়া দুই সহ-সভাপতি হলেন- মো. শহীদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হোসেন। একই প্যানেলে সদস্যপদে জয়ী তিনজন হলেন- ফাতেমা বেগম, শাহাদাত হোসাইন (রাজিব) ও সুব্রত কুমার কুণ্ডু।

বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল থেকে জয় পেয়েছেন কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, দুই যুগ্ম সম্পাদক পদে মাহফুজ বিন ইউসুফ ও মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। এছাড়া এ প্যানেল থেকে সদস্য পদে জয়ী চারজন হলেন- কামরুল ইসলাম, মাহদীন চৌধুরী, মো. গোলাম আক্তার জাকির ও মো. মঞ্জুরুল আলম (সুজন)।

এর আগে আইনজীবীদের দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি, মারামারির মধ্যে বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় সমিতির সম্মেলন কক্ষের তালা ভেঙে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা করতে যান অজি উল্লাহর নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনায় নতুন উপ-কমিটি।

এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সমিতির সম্মেলন কক্ষের কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের উপস্থিতে ভোট পুনর্গণনা করা হয়।

এর আগে গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন উপ-কমিটি।

ওই দুদিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনের ৫১টি বুথে সমিতির ২০২২-২০২৩ মেয়াদের এ নির্বাচনের ভোট নেওয়া হয়। মোট ৮ হাজার ৬২৩ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোট দেন ৫ হাজার ৯৮৩ জন।

এর একদিন পর ১৭ মার্চ ভোট গণনা করে রাতে ফলাফল ঘোষণার সময় আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্যানেল পক্ষের সম্পাদক প্রার্থী ভোট পুনর্গণনার দাবি করে লিখিত আবেদন জানালে তখন ফল ঘোষণা আটকে যায়। ওই রাতে ফলাফল ঘোষণা না করে মশিউজ্জামান সমিতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে খবর আসে।

পরের দিন ১৭ মার্চ রাতে ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, সভাপতিসহ ছয়টি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল এবং সম্পাদকসহ আটটি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। তখন সম্পাদক পদে ক্ষমতাসীন প্যানেলের প্রার্থী পুনর্গণনার আবেদন করেন।

এ অবস্থায় আইনজীবী সদস্যদের মধ্যে স্লোগান পাল্টা স্লোগানের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে ফলাফল ঘোষণা না করে স্থান ত্যাগ করেন নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটির সদস্যরা।