সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিচারে ট্রাইব্যুনাল চায় চট্টগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদ

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে মোট ১১ দফা দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। এর মধ্যে প্রথম দাবিটি হল বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে সব সম্প্রদায়ের সমঅধিকার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি চন্দন তালুকদার বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মঠ, মন্দির, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, লুটপাট, হামলা ভাংচুরসহ সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

গত ২১ অগাস্ট জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন থেকেও একই দাবি জানানো হয়েছিল।

চন্দন তালুকদার বলেন, “বিগত দিনের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট আবেদন জানিয়েছিলাম যাতে নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

“তারপরও লক্ষ্য করেছি দেশের কিছু স্থানে মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর হামলা নির্যাতন চালিয়েছে। এখনও কিছু কিছু এলাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করছে এবং জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তাতে আমরা শঙ্কিত।

“সরকার মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান আপাতত সামাল দিতে পারলেও তাদের গোপন কার্যক্রম চলমান। সরকার জঙ্গি, ধর্ষক ও মাদকের বিরুদ্ধে যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এজন্য সাধুবাদ ও পূর্ণ সমর্থন জানাই। অনুরূপভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতা, মদদদাতা এবং সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাংচুরকারী, জমি দখলকারী এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে দেশে সহাবস্থান নিশ্চিত হবে।”

তিনি বলেন, এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ বাহাত্তর সালে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনা করে। বাহাত্তরের সংবিধানের অলোকেই দেশ চলার কথা। কিন্তু পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর নানা কারণে এখনও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।

“আমাদের পক্ষ থেকে যেখানে যা বলার তা তুলে ধরেছি। প্রধানমন্ত্রীকেও বলেছি। আশা করি বাহাত্তরের সংবিধানে একদিন ফিরে যাবে বাংলাদেশ।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এবার নগরীর ১৬টি থানায় মোট ২৭০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পরিষদের উদ্যোগে পূজার আয়োজন করা হয়েছে নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গনে।

সংবাদ সম্মেলনে চন্দন তালুকদার বলেন, “রাত ১২টার পর নগরীর কোনো মণ্ডপে যেন অনুষ্ঠান না চলে সে বিষয়ে আয়োজকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিজে নয়। নেশাগ্রস্ত কেউ মণ্ডপে আসতে পারবে না।

“মণ্ডপে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাখাল দাশগুপ্ত, পরিষদের নেতা সাধন ধর, বিমল কান্তি দে, অরবিন্দ পাল অরুন, আশীষ ভট্টচার্য, অধ্যাপন অর্পন ব্যানার্জী, রানা বিশ্বাস, সুমন দেবনাথ, সুজিত দাশ, দুলাল চন্দ্র দে, নটু ঘোষ, নিখিল নাথ, জিতেন গুহ, হিল্লোল সেন প্রমুখ।