সাবেক সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদুত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী

অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

হাবিবুর রহমান সোহেল,রামু: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, সমাজ সেবক, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদুত, বিশ্বনন্দিত পর্যটন নগরী বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমান্ত জনপদের সমুদ্র সন্তান, বিশিষ্ট আওয়ামীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, অসংখ্য শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বর্ণাঢ্য রাজনীতিক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৭ আগস্ট, শনিবার।

বরণ্যে এ রাজনীতিকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজারের রামুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-অঙ্গসংগঠন, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

সকালে রামু ওসমান ভবনে খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিল, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী‘র প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকালে রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী মিলনায়তনে স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। প্রধান আলোচক হিসেবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার। সভাপতিত্ব করবেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী। সভায়

পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, মরহুমের ঘনিষ্ঠজন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।

: অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী‘র সংক্ষিপ্ত জীবনী :

অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৩৭ সালের ১৮ অক্টোবর রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মালেকুজ্জামান সিকদার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বোর্ডের আজীবন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৫৫ সালে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএ, ১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এমএ পাশ করেন।

কক্সবাজার জেলার সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৬১-১৯৬২ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের এজিএস ও ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে লাহোরে ছাত্র নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় এলাকার কতিপয় চিহ্নিত পাক-হানাদার, রাজাকার, আলবদর বাহিনী তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-১৯৭৩ সালে রামু-উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা হতে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় বাংলাদেশ বন মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত-এর দায়িত্ব পালন করেন।

সফল রাজনীতিক আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ছিলেন। নারী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, সমাজসেবা আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস আর দরিদ্র মানুষের দুর্দিনে নিজেকে উৎসর্গ করতেন ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য ভূমিকা।

তিনি ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির নির্মাণে সহযোগিতা করেন।

বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।