সাংবাদিকদের সাথে ফেনী জেলা হিযবুত তওহীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকদের সাথে ফেনী জেলা হিযবুত তওহীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী প্রতিনিধি:  আজ বেলা ৪ ঘটিকায় ফেনী সদর ক্রাউন ওয়েস্ট রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে  ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের ‘মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘অপপ্রচার, হুজগ-গুজব সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড, জ্বালাও-পোড়াও ও লুটপাটের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে অবহিতকরণের জন্য এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় উপকমিটির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, প্রকৌশলী জনাব রাকীব আল হাসান। তিনি হেযবুত তওহীদের সদস্য সমর্থকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও নির্যাতনের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গত ২৭ বছর যাবৎ রাষ্ট্রীয় আইন মান্য করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, নারী নির্যাতন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরে গণসচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটা শ্রেণি আমাদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মিথ্যাচার, অপপ্রচার, হুজগ-গুজব ছড়িয়ে, অবৈধ ফতোয়া আর উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় উম্মাদনায় উত্তেজিত করছে, আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিচ্ছে। তারা আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।

২৩ আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে হেযবুত তওহীদের পাবনা জেলা কার্যালয়ে আকস্মিক সশস্ত্র হামলা করে মো: সুজন মণ্ডল নামের হেযবুত তওহীদের একজন সদস্যকে হত্যা এবং ১০জন সদস্যকে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেছে। এ পর্যন্ত হেযবুত তওহীদের পাঁচজন সদস্য-সদস্যাকে পৈশাচিক কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা তাদের পৈশাচিক আক্রমণের জবাবে আক্রমণ না করে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছি।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- আমরা একবারের জন্যও ন্যায় বিচার পাই নাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিচারের নামে কালবিলম্ব করায় সশস্ত্র আক্রমণকারী ঘাতকরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর নিরবচ্ছিন্নভাবে হেযবুত তওহীদের এমামকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, হত্যা করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করছে, হেযবুত তওহীদের এমামকে ও সদস্য-সমর্থকদের অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছে, বসতবাড়ি-ঘর আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভষ্মীভূত করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা হেযবুত তওহীদ- শত্রুতার বদলে ভ্রাতৃত্বের, হিংসার বদলে সম্প্রীতির, ধ্বংসের বদলে নির্মাণের, অজ্ঞতার বদলে শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছি।  কাজেই মানবতার কল্যাণকামী এরূপ একটি সত্যনিষ্ঠ আন্দোলনের নামে মিথ্যাচার, অপপ্রচার, হুজগ-গুজব সৃষ্টি করে জনগণের মধ্যে ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় হেযবুত তওহীদের আমীর মো. নিজাম উদ্দিন। তিনি হেযবুত তওহীদ সদস্য-সদস্যাদের হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, ইউটিউবে হুমকি, অপপ্রচার, জালিয়াতির ডকুমেন্টস উপস্থাপন করে তাদের অনতি বিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদ সভাপতি মো. নুরুল আবসার সোহাগ তিনি বলেন  দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে। সাধারণত সরকারগুলো শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট মোকাবেলা করার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু শক্তিপ্রয়োগ করেই ধর্মান্ধতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি সঠিক আদর্শও লাগবে। ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করতে হবে। উগ্রবাদ মোকাবেলায় ইসলামের সেই প্রকৃত ব্যাখ্যা বা সঠিক আদর্শ (কাউন্টার ন্যারেটিভ) তুলে ধরছে হেযবুত তওহীদ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং হেযবুত তওহীদের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে অবহিত করা হয়।

হেযবুত তওহীদের দাবি-

১)সর্বশেষ পাবনায় হেযবুত তওহীদ সদস্য মো. সুজন মন্ডলের হত্যাকারীসহ অন্যান্য সদস্যদের যারা হত্যা করেছে, সে সকল হত্যাকারী খুনিদের গ্রেফতার করে সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২)যে সকল অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারী সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগা-া চালাচ্ছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে সে সকল হুমকি দাতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৩)জুম্মার নামাজে খুৎবায় এবং ওয়াজ মাহফিলের মত ধর্মীয় সভাকে ব্যবহার করে যে সকল উগ্রবাদী বক্তা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও উস্কানীমূলক ওয়াজ করে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

৪)সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল ছবি পোষ্ট করে হেযবুত তওহীদের এমাম ও সদস্যদের ব্যক্তিত্ব হরণ, হত্যার হুমকী, হত্যা করার জন্য পুরুষ্কার ঘোষণা করার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিলীয় সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে অপরাধিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।