সর্বস্থরে তালিকা আতংক, কথিত নামের তালিকাকে অসত্য ও গুজব বলছে র‍্যাব-৭

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনো কান্ড থেকে টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত বড় বড় রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার ও বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনা দেশ বিদেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে৷ সরকারের ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানটি শুরু করেছে সরকারের নিজ দলীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে ৷ এই অভিযানকে সবাই সাধুবাদ জানালেও কথিত শুদ্ধি অভিযানের তালিকার নাম নিয়ে শুরু হয়েছে গুজব প্রচার৷ তবে র‍্যাবের দাবী শুদ্ধি অভিযানে চিহ্নিতদের তালিকায় নাম প্রকাশ ও প্রচারের কারো সুযোগ নেই৷ কেউ এমন করলে অসত্য।

রাজধানীতে অভিযানের পর চট্টগ্রামের অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অসাধুচক্র ইতিমধ্যে গা ঢাকাও দিয়েছে৷ বিশেষ করে সরকার দলের অনেক নেতার পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আছে অভিযান আতংকে৷ আর এসব আতংককে পুঁজি করে একশ্রেণীর লোক শুরু করেছে তালিকা তালিকা খেলা৷ বিশেষ করে বেশ কিছু আন্ডার গ্রাউন্ড মিডিটা কথিত তালিকায় নাম আছে জানিয়ে নগরির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে আরো আতংকিত করে তুলেছে৷ ২০, ২২, ৩০-৩৫ জনের তালিকা র‍্যাবের হাতে আছে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর সেই তালিকা আতংক আরো বেড়ে গেছে৷ বেশ কিছু পত্রিকা ঢালাও ভাবে তালিকায় থাকা নাম প্রকাশ করেছে৷ প্রতিদিন বিভিন্ন জনের কাছে তালিকায় নাম আছে মর্মে বার্তা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

পিডিবি’র এক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিপ্লাসকে জানান, “ইতিমধ্যে একাধিক সাংবাদিক পরিচয়ে আমাকে কল দিয়ে বলছে আমার নাম নাকি তালিকায় আছে আমি হিসেব করে পাচ্ছিনা আমার নাম কেন তালিকায় থাকবে ?” নগর যুবলীগের সক্রিয় এক নেতার অভিযোগ তার নাম র‍্যাবের তালিকায় আছে উল্লেখ করে ইতিমধ্যে সংবাদও প্রকাশ করেছে কিছু সংবাদ মাধ্যম৷ কিন্তু কোন ক্যাটাগরিতে তার নাম এসেছে সেটা তার নিজেরো বোধগোম্য হচ্ছে না বলে জানান৷ একই হাল নগরীর একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের৷ তাদেরও নাম সেই তালিকায় আছে মর্মে সংবাদ প্রচার হওয়ায় তারা এখন রিতিমতন বিব্রতকর অবস্থায় আছে৷ এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করে সিপ্লাস জানতে পেরেছে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ধারিদেরই নয় এই তালিকায় নাম আছে মর্মে বিভিন্ন পেশাজীবিদেরো টার্গেট করছে বিশেষ মহল৷ তালিকার নামে কথিত কিছু সাংবাদিক অর্থদাবীর অভিযোগ উঠেছে৷ অনেকে ভয়ে কিংবা আতংকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয় গুলো ফয়সালা করেছে৷

এই বিষয়ে র‍্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া ও অপারেশন কর্মকর্তা) মো. মাশকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিপ্লাসকে জানান, গোপন প্রতিবেদনের তালিকা যদি প্রকাশই হয় তাহলে সেটা গোপন হয় কিভাবে ? এমন কোন তালিকা গণমাধ্যমের হাতে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি কথিত নামের তালিকার বিষয়টি নিতান্তই অসত্য ও গুজব বলে জানান ৷ তিনি বলেন, “শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে হেডকোয়াটার থেকে যখন যা নির্দেশনা আমাদের দেয়া হবে আমরা সেটার বাস্তবায়ন করবো৷ ” কাউকে অযথা তালিকার নামে হয়রানী করা র‍্যাবের কাজ নয়। যদি কেউ তালিকায় নাম আছে উল্লেখ করে কারো কাছে ফোন দেয় এবং এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অনৈতিক প্রস্তাব দেয় তাহলে ভূক্তভোগীদের সরাসরি র‍্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো পরামর্শ দেন র‍্যাবের এই কর্মকর্তা৷