সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি খোলা চিনি ৮৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির মূল্য ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৯৫ টাকা ও ১০০ টাকায়।

ঊর্ধমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবে দাম নির্ধারণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ১১ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিনি।

গত ২২ সেপ্টেম্বর খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি খোলা চিনি ৮৪ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির মূল্য ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৯৫ টাকা কেজি ও ১০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারি ও খুচরা পর্য়ায়ে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে চিনির দাম।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতিমণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা দামে, যা গত দুই সপ্তাহ আগেও মাত্র ৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসেবে, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি পর্য়ায়ে প্রতিমণ চিনির দাম ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কেজিপ্রতি ৮ টাকারও বেশি।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী নেয়াজ মোর্শেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে চিনির দাম নিম্নমুখী । কিন্তু এই সময়ে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম না কমে উল্টো বেড়ে চলেছে।

“আগস্টের শুরুর দিকে পাইকারিতে প্রতিমণ চিনি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। দুই-আড়াই মাসের ব্যবধানে তা এখন বেড়ে৩ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকায়। অর্থাৎ গত দুই মাসে পাইকারিতে চিনির দাম মণে প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। যা খুবই অস্বাভাবিক,” বলেন নেয়াজ।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী মেসার্স আরএম ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আলমগীর পারভেজ বলেন, সরকারের খুচরা পর্য়ায়ে চিনির যে দাম নির্ধারণ করেছে তার চেয়েও বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।

তিন বলেন, “সরকার খুচরা পর্য়ায়ে খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করেছে ৮৪ টাকা। কিন্তু পাইকারিতে প্রতিমণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারিতেই প্রতিকেজি চিনির দাম পড়ছে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।”

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজার কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে।

এই বিষয়ে সিটি গ্রুপের ডিজিএম (সেলস) প্রদীপ করণ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বুকিং দর কমেছে তা ঠিক। তবে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে তাদের আমদানি মূল্য পরিশোধে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের কম বুকিং দরের সুফলটা তারা পাচ্ছে না।

“এছাড়া চিনির নিয়ন্ত্রিত শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে পূর্বের ন্যায় ৩০ শতাংশ করায় তাদের খরচ বেড়েছে। ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম কমানো যাচ্ছে না,” যোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি অর্থবছরের গেল তিন মাসে চিনির আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু গেল অর্থবছরে পণ্যটির আমদানি ছিল আগের চেয়ে প্রায় ৪ লাখ টন। আমদানি সংকটের ওই সুযোগটিকে কাজে লাগিয় মূলত গত তিন মাস ধরে চিনির বাজারকে অস্থির করে তুলেছে আমদানিকারক ও কারখানা মালিকরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস’র তথ্যমতে, গেল অর্থবছরে (২০২১-২২) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মাত্র ১৭ লাখ টন চিনি আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে চিনি আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ টন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, “বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরমধ্যে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল ও চিনি বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরায় দাম সমন্বয়ের বিষয়টি দেখবে সরকার।”

“কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। আমরা এই বিষয়টি আরো জোরালোভাবে মনিটরিং করবো,” যোগ করেন তিনি।

বর্তমানে দেশে চিনির চাহিদা প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। দেশীয় চাহিদার মধ্যে সরকারি মিলগুলো একসময় দেড় থেকে দুই লাখ টন চিনি উৎপাদন করত। তবে, সর্বশেষ দুই বছরে ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ছয়টির উৎপাদন বন্ধ থাকায় উৎপাদন যথাক্রমে ৪৮ হাজার টন ও ২৫ হাজার টনে নেমে এসেছে। যে কারণে দেশের চিনি খাত প্রায় শতভাগ বেসরকারি মিলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।