সন্দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব

সন্দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব। ছবি সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাব প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে উপকূলীয় উপজেলা সন্দ্বীপে। সোমবার  সন্ধ্যার পর থেকে দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। রাত বাড়ার সাথেসাথে বেড়িবাঁধ এলাকার লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আসা শুরু করেছে। রাত সাড়ে আটটার পর থেকে নদীতে পানির উচ্চতা বাড়া শুরু করেছে। রাত সোয়া নয়টায় জোয়ারের পানি সারিকাইত ও মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিমে বেড়িবাঁধের সমান পর্যন্ত উঠেছে। সারিকাইত, মাইটভাঙ্গা, মগধরা,মুছাপুর, আজিমপুর ও রহমতপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার লোকজন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছে। বেড়িবাঁধ কিছুটা নিচু থাকায় সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার পাকা রাস্তার মাথায় বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকেছে।

বাতাসের কারণে রবিবারে রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তির পরিমাণ বেড়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেলের মাধ্যমে লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা নদীর কূলের লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলায় ১১২ টি আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়াও ৪টি মুজিব কিল্লা ও ৪০ টি স্কুল কলেজকে আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৬ টি চিকিৎসক টিম ও সরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি বেসরকারি হাসপাতালকে জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী টিমের পাশাপাশি  পিপিপির ২ হাজার ৯শ ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছে।

চারপাশে কোন বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উরিরচরের তিনটি মুজিব কিল্লাতে প্রায় তিন হাজার মানুষ সহ গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লোকজন আশ্রয় নিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা জানান, আমাদের মনিটরিং টিম প্রতিটি এলাকায় খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র,চিকিৎসক টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম ও শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।