শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের অতৃপ্তকর জয়

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ক্রিকেটকে হয়তো এ কারণেই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়। দৃশ্যপট পাল্টে যেতে একেবারেই সময় লাগে না। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া জিম্বাবুয়েই সামান্যতম লড়াইও করতে পারলো না। আগের দুই ম্যাচে বড় বড় লক্ষ্য পাড়ি দিয়ে বিজয় নিশান উড়ানো দলটি এবার মাঝারি লক্ষ্যও পাড়ি দিতে পারলো না। টানা দুই সেঞ্চুরিতে দেশকে ঐতিহাসিক সিরিজ জেতানো সিকান্দার রাজাও রয়ে গেলেন নিষ্প্রভ। দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ।

বুধবার হারারে স্পোর্ট ক্লাবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যা ওয়ানডেতে রানের হিসিবে বাংলাদেশের ১৫তম বড় জয়। সিরিজ হারের ক্ষোভ যেন এক ম্যাচ দিয়েই মিটিয়ে নিতে চাইলো সফরকারীরা। এই জয়ে বিশেষ প্রাপ্তি না থাকলেও অন্তত হোয়াইটওয়াশের অস্বস্তি থেকে বাঁচলো তামিম ইকবালের দল। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজও জিতলো একই ব্যধানে (২-১)।

স্বাগতিক দেশটির টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় ছিল ঘরের মাঠে ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়। আর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ বছর পর সিরিজ জয়। দুই ফরম্যাটে মোট ছয় ম্যাচ, এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে কেবল ২টি ম্যাচ। যা কেবল সিরিজ হারের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতার গল্প। ওয়ানডেতে ব্যাটিং ব্যর্থতা না হলেও ছিল উপযুক্ত সংগ্রহ গড়তে না পারার হতাশা। এর সঙ্গে গড়পড়তা বোলিং ও বাজে ফিল্ডিংয়ে হার মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে।

আগের দুই ম্যাচ হারলেও সংগ্রহ একেবারে ছোট ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচে টস হিরে আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ হতাশার ব্যাটিং করে। দারুণ ব্যাটিং উইকেটেও ২৫৬ রানে থামে তাদের ইনিংস। এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব দারুণ ব্যাটিং করলেও অন্যদের ব্যর্থতায় ইনিংস বড় হয়নি বাংলাদেশের। জবাবে অভিষিক্ত মুস্তাফিজুর রহমান, এবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলামদের বোলিং তোপে ৩২.২ ওভারে ১৫১ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়েকে ভালো শুরু করতে দেয়নি বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই স্বাগতিকদের ওপেনার টাকুডওয়ানশে কাইটানোকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। পরের ওভারে টাডিওয়ানশে মারুমানির স্টাম্প উপড়ে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭ রানেই ২ উইকেট হারানো দলটিকে ঘোর অন্ধকারে ফেলে দেন অভিষিক্ত এবাদত। ষষ্ঠ ওভারে পরপর দুই বলে ওয়েসলে মাধেভেরে ও এই সিরিজে বাংলাদেশের যমদূত হয়ে ওঠা সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে যখন খাদের কিনারে, তখন তোপ তাগা শুরু করেন মুস্তাফিজ ও তাইজুল। একটু পরপরই উইকেট নেওয়ার উদযাপনে মাততে থাকে বাংলাদেশ। শুরুতেই দিক হারিয়ে ফেলা জিম্বাবুয়ে আর আলোর পথ খুঁজে পায়নি, লক্ষ্য অনেক দূরে থাকতেই থামে তাদের ইনিংস। অবশ্য তাদের শেষ জুটি বেশ ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। শেষ দুই ব্যাটসম্যান রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নিয়াউচি ৬৮ রান যোগ করেন, যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে দশম উইকেটে রেকর্ড জুটি। এই ইনিংসেরও সর্বোচ্চ জুটি।

ইনিংস সেরা ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন এনগারাভা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান আসে নিয়াউচির ব্যাট থেকে। এর আগে অভিষিক্ত ক্লাইভ মাডান্ডে ২৪, ইনোসেন্ট কাইয়া ১০, টনি মুনইয়োঙ্গা ১৩ ও লুক জংওয়ে ১৫ রান করেন। অনেকদিন পর আগুনে বোলিং করা মুস্তাফিজ ৫.২ ওভারে ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন। অভিষেকেই আলো কাড়া এবাদত ৮ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন। এ ছাড়া তাইজুল ২টি এবং মিরাজ ও হাসান একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই ধারাভাষ্যকাররা বলে যাচ্ছিলেন, ‘ব্যাটিং করার জন্য দারুণ উইকেট।’ কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে ঠিক উল্টোটা। অবশ্য বাংলাদেশের ইনিংস আরও আগে শেষ হতে পারতো। আফিফের লড়াইয়ের কারণে তা হয়নি।

বাঁহাতি তরুণ এই ব্যাটসম্যান এক পাশ আগলে শেষ পর্যন্ত রান তোলার কাজটি করে যান। তার আগে কেবল এনামুল হক বিজয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। মাহমুদউল্লাহ রান পেলেও প্রচন্ড ধীরগতির ব্যাটিং করেন। এই ইনিংসে বাংলাদেশের পাঁচজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করেছেন, শূন্য রানে আউট হন চার জন।

দারুণ ব্যাটিং উইকেট হলেও শুরুটা ধীরগতির হয় বাংলাদেশের। ধীরগতির শুরুর পরও অবশ্য উদ্বোধনী জুটি থেকে বেশি রান পায়নি সফরকারীরা। দলীয় ৪১ রানে বিদায় নেন তামিম। রান আউটে কাটা পড়ার আগে ৩০ বলে ৩টি চারে ১৯ রান করেন তামিম। অধিনায়ক ফিরতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।

এক ওভারেই নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দেন জিম্বাবুয়ের পেসার ব্র্যাড ইভান্স। এই দুই ব্যাটসম্যানের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ৪৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানো দলকে পথ দেখাতে শুরু করেন বিজয় ও মাহমুদউল্লাহ। এই জুটি থেকে আসে ইনিংস সেরা ৭৭ রান। কিন্তু এ সময় বিজয় স্বাভাবিক গতিতে ব্যাট চালালেও মাহমুদউল্লাহ ছিলেন ধীরগতির।

দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা বিজয়ের বিদায়ে ভাঙে জুটি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৬ রান করেন ডানহাতি এই ওপেনার। ওয়ানডেতে এটা তার পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি ও এই সিরিজে দ্বিতীয়। বিজয়ের বিদায়ের পর আফিফ হোসেন ধ্রুবর সঙ্গে জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ।

এই জুটি থেকে ৫৭ বলে আসে ৪৯ রান। চরম দৃষ্টিকটু ব্যাটিং করা মাহমুদউল্লাহ ৩৯ বলে ৩টি চারে ৩৯ রান করে আউট হন। এরপর বাকি পথটা একাই লড়তে হয় আফিফকে। মেহেদী হাসান মিরাজ আশা জাগালেও ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কঠিন চাপের মাঝেও আফিফ ৮১ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও অপরাজিত থাকেন।

তাইজুল ইসলাম রান আউটে কাটা পড়ার আগে করেন ৫ রান। হাসান মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান রানের খাতা খুলতে পারেননি। অভিষিক্ত এবাদত হোসেন উইকেটে গেলেও কোনো বল মোকাবিলা করার সুযোগ পাননি। জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান ও লুক জংওয়ে ২টি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান রিচার্ড এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা।