শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্য অর্জনে বহু পিছিয়ে দেশ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: রাজধানীতে এক কর্মশালায় বিশিষ্টজন বলেছেন, বাংলাদেশকে আগামী তিন বছরের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত করতে ১৬টি মন্ত্রণালয় ও অনেক বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। তবে সমন্বয়হীনতার কারণে অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে দেশ। ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় কর্মকৌশল আরও স্পষ্ট এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। তাঁরা বলেছেন, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রমের হার কিছুটা কমেছে। তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে এ হার অনেক বেশি।

সোমবার একটি হোটেলে দেশের ১৬টি মন্ত্রণালয়সহ উন্নয়ন সংস্থার অংশগ্রহণে এ কর্মশালার আয়োজন করে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউনিসেফ। এখানে ৫টি কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, স্থান ও খাতভিত্তিক পরিকল্পনায় এরই মধ্যে রাজধানীর অদূরের কেরানীগঞ্জে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রথম মডেল শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা গড়ে তোলার কাজ চলছে।

কর্মশালায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাজেরা খাতুন বলেন, গত কয়েক দশকে শিশুশ্রম নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। তা সত্ত্বেও দেশের ৫-১৭ বছরের শিশুদের ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে জড়িত। ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা প্রধান নেটালি ম্যাককাওলি বলেন, শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সামাজিক কার্যক্রমের পরিধি গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের রেকর্ড রাখতে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাপক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এলিজা কল্পনা বলেন, এসডিজি ৮-এর অধীনে এ বছরেই ইউনিসেফ বাংলাদেশ, শ্রম অধিদপ্তর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। আমরা চাই, শিশুশ্রমকে বিদায় জানিয়ে একটি শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা করতে। এটি হবে এমন একটি পরিকল্পনা, যা সরকার নিজেই তৈরি করবে এবং তা হবে টেকসই।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব তৌফিকুল আরিফ শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে আরও বিশদভাবে বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলতে পরিকল্পনাগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ভাগ করে আরও স্পষ্ট করা উচিত।

ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী বলেন, বাধ্যতামূলক কাজ থেকে শিশুশ্রম অপসারণ করতে হবে। শিশুশ্রমে জড়িতদের ডিজিটাল কার্ডের অধীনে আনা হলে সহজেই তাদের পুনর্বাসন করা যাবে। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ৯৫ শতাংশ অর্থই এরই মধ্যে সংস্থান হয়ে যাওয়ায় পুরো পরিকল্পনাটাই বাস্তবায়নযোগ্য। তবে এ ক্ষেত্রে অংশীজনের স্বপ্রণোদিত হয়েই কাজ করতে হবে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সালমা আলী, কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব জুলিয়া জেসমিন, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক আবু আসিফ মাহমুদ প্রমুখ।