শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পরীক্ষার কেন্দ্র স্থানান্তর

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কুমিল্লায় দাখিল পরীক্ষার সময় শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এতে নগরীর চকবাজার আলিয়া মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র পার্শ্ববর্তী ইউসুফ হাইস্কুলে স্থানান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক এবং আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- নগরীর চকবাজারে অবস্থিত আলিয়া মাদ্রাসায় চলতি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশকালে দেহ তল্লাশির সময় পরীক্ষার্থীদের হামলায় কামরুল হাসান শিকদার নামক এক শিক্ষক আহত হন।

এ ঘটনার পর বাকি পরীক্ষাগুলোর জন্য আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কেন্দ্র স্থানান্তর করে কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলে ইউসুফ হাইস্কুল, নবাব ফয়জুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুমিল্লা জিলা স্কুলের শিক্ষকরা হলের দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষার পৌরনীতি, কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, উর্দু, ফার্সি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষার সময় নির্ধারণ ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষকেরা মাদ্রাসা ফটকের সামনে দাখিল পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করছিলেন। এ নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। একপর্যায়ে ওই পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল ইসলাম শিকদার মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

ঘটনার পর কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা দৌলতপুর দারুল আমান হাতিমিয়া আলিম মাদ্রাসা, ইটাল্লা দাখিল মাদ্রাসা ও ভুতুয়া শ্রীপুর মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। পরীক্ষা শেষে মারামারির অভিযোগে দৌলতপুর দারুল আমান হাতিমিয়া আলিম মাদ্রাসা, ইটাল্লা দাখিল মাদ্রাসা ও ভুতুয়া শ্রীপুর মাদ্রাসার ৬ পরীক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান  বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক, তারপরও তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানবিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করে ইউসুফ হাইস্কুলে নেওয়া হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলো পরীক্ষার্থীরা সেখানেই দেবে।