রিজার্ভের অবস্থা সম্পর্কে দেশবাসীকে জানানোর আহ্বান রবের

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার না কি ২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার তা দেশবাসীকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, রিজার্ভ সংকটে নজর দেয়নি সরকার।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান আবদুর রব।

জেএসডি সভাপতি বলেন, গত কয়েক বছর ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের দুর্নীতি ও অদক্ষতা ঢাকতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ নিয়ে বেশ বড়াই করে আসছিল। যদিও এতে সরকারের তেমন কোনো কৃতিত্ব নেই। মূলত ব্যবসায়ী সমাজের রপ্তানি এবং দেশের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের অবদানেই রিজার্ভ। তথাকথিত অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অপ্রতিহত জোয়ারের বয়ান শেষে এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সাড়ে চারশো কোটি ডলারের ঋণ আবেদনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক বিপর্যয় উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভের যে তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে তার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল আইএমএফ। এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যেকোনো দেশের রিজার্ভ হিসাবে বিপিএম৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) পদ্ধতি অনুসরণ করে। বর্তমানে সরকারের হিসাবে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার অথচ আইএমএফের হিসাব বলছে ২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

রব বলেন, দেশের রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হলে সর্বসাকুল্যে আগামী ৩ মাসের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট মেটানো যাবে। আগামী বছরের শুরু থেকে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে তাও স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, রিজার্ভের টাকা খরচ করার অগ্রাধিকার নির্ধারণে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রমাণ সরকার অতি উৎসাহী হয়ে সংকটের গভীরে নজর না দিয়ে নিজেদের ইমেজ বাড়ানোর লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কাকেও ঋণ দিতে উৎসাহবোধ করেছে। এ অবস্থায় রিজার্ভ ও দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা দেশবাসীকে অবহিত করে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।