রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে রোহিঙ্গা সঙ্কট, দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের : মাহাথির

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মিয়ানমার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সরকার সমর্থিত সেনা আগ্রাসনকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দিয়ে মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। পাশাপাশি এর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সংকট সমাধানের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর বর্তায় বলেও তিনি দাবি করেন।

বুধবার (২৫ সেম্পটেম্বর) মালয় বার্তা সংস্থা দ্য স্টার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দফতরে ওআইসি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কর্তৃক আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। পাশাপাশি এর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট সংকট সমাধানের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর বর্তায়’।

এই প্রতিবেদনের ‘রোহিঙ্গা সংক্রান্ত’ অংশে বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারের দাবি, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় তারা রাখাইনে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কারণে লাখ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। রাখাইনে যা ঘটেছে তা ছিল একটি গণহত্যা। এখন মিয়ানমার যেহেতু এ সমস্যার সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তখন এর সমাধানের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপরই বর্তায়। ভবিষ্যতে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এখন সংস্থাটির উচিত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখা।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন মাহাথির। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এক বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে মাহাথির বলেন, ‘আসুন সোজাসাপ্টা কথা বলি। রাখাইনে যা ঘটেছে তা গণহত্যা। সেখানে গণহত্যা, পদ্ধতিগত ধর্ষণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।’

ড. মাহাথির বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানাই। মালয়েশিয়াও যতটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার বাইরেও কক্সবাজারে একটি ফিল্ড হসপিটাল পরিচালনা করছে মালয়েশিয়া। ওই হাসপাতালের পাশেই এক লাখ নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছে। এছাড়া আরও বহু অবনিবন্ধিত শরণার্থীও রয়েছে সেখানে। তারপরও বাংলাদেশের জন্য এটি অপ্রতুল। রোহিঙ্গাদের ভালো জীবনযাপনের জন্য বাংলাদেশ প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছে। আমরাও আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সাহায্য করবো। আশা করি অন্যান্য দেশগুলোও এগিয়ে আসবে। এই সংকটের অবসান ঘটনো দরকার এবং এটি এখনই করা দরকার।

‘আসুন সোজাসাপ্টা কথা বলি। রাখাইনে যা ঘটেছে তা গণহত্যা। সেখানে গণহত্যা, পদ্ধতিগত ধর্ষণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।’

এসকল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মাহাথির বলেন, ‘শরণার্থীরা যত দিন শিবিরে থাকবে ততই তারা আরও হতাশ ও মরিয়া হয়ে উঠবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে যা হয়, সেটি হচ্ছে শরণার্থীরা অন্য ধরণের শোষণের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তারা মানব পাচার এবং যৌন দাসত্বের মতো ঘটনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। কারণ রাখাইনের বহু রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবেই বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছিল। মিয়ানমারকে এর প্রমাণ দেওয়া উচিত যে, সংকট নিরসনে তারা গুরুত্বআরোপে সচেষ্ট। এক্ষেত্রে তাদের উচিত প্রত্যাবাসনকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া।’

এছাড়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে না চাওয়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এর কারণগুলো স্পষ্ট। কেউ যদি তার সুরক্ষার নিশ্চয়তা বোধ না করে তবে সে ফিরবে না। এজন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বতঃস্ফূর্ত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর মালয়েশিয়া জোর দিচ্ছে। এটি শুধু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে অন্যদেরও এ সংকট সমাধান এবং অপরাধীদের বিচারের জন্য ভূমিকা নিতে হবে।

এর আগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন। সংকট নিরসনে বিশ্বনেতাদের সামনে চার প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।

সূত্র: দ্য স্টার